ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মার্কিন সূত্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, তেহরানের হামলার ব্যাপ্তি ও প্রস্তুতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে—যুদ্ধের আগে থেকেই তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল।
মার্কিন গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, সামরিক ঘাঁটি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এসব হামলার মধ্যে অন্তত দুটি স্থাপনায় আঘাতে সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি স্থাপনা শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি কিছুটা ভিন্ন। তাদের মতে, অধিকাংশ হামলাই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবুও অন্তত ১১টি সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন স্থাপনার প্রায় অর্ধেকের সমান।
যুদ্ধ শুরুর দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর মধ্যে ছিল সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস, কুয়েতের আলি আল সালেম এয়ারবেস, ক্যাম্প বুয়েরিং এবং কাতারের আল উদেইদ এয়ারবেস। এর মধ্যে আল উদেইদ এয়ারবেস মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
ইরানের হামলায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো পুরোপুরি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর কংগ্রেসকে জানায়, যুদ্ধের প্রথম দিনের হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে প্রায় ২০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
যুদ্ধের প্রথম দিকের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলার গতি কিছুটা কমলেও আক্রমণ পুরোপুরি থেমে যায়নি। আল উদেইদ এয়ারবেস, আলি আল সালেম এয়ারবেস, আল ধাফরা এয়ারবেস, ক্যাম্প বুয়েরিং এবং পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় স্থাপন করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ইরান পরিকল্পিতভাবে এসব ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শক্তিশালী রাডারের মাধ্যমে আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। সামরিক নথি অনুযায়ী, এমন একটি রাডার ইউনিটের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
এদিকে বেসামরিক মার্কিন স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট এবং কুয়েত সিটি ও সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দূতাবাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার কারণে সাময়িকভাবে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬