|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১০ মার্চ ২০২৬ ০১:১২ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৮ মার্চ ২০২৬ ০৫:০৩ অপরাহ্ণ

ভারতে আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বড়াইগ্রামের সাংবাদিক তানিউল করিম জীম


ভারতে আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বড়াইগ্রামের সাংবাদিক তানিউল করিম জীম


নাটোর প্রতিনিধি:



নাটোরের বড়াইগ্রামের সন্তান সাংবাদিক তানিউল করিম জীম বর্তমানে ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়ারী ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম রেজাউল করিমের বড় ছেলে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও জীমের সহযাত্রী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ এলাকার এক মুসলিম যুবক জানান, গত ১ মার্চ ব্যাঙ্গালুরু থেকে ফেরার পথে ট্রেনে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান তানিউল করিম জীম। বিষয়টি টের পেয়ে তার সঙ্গে থাকা বোনের শ্বশুর উদ্বিগ্ন হয়ে অন্য যাত্রী ও রেল পুলিশকে বিষয়টি জানান। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর প্রায় ৯ ঘণ্টা পরে ট্রেনের টয়লেট থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি ট্রেনের টয়লেটে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। ট্রেনেই থাকা একজন চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে ট্রেন কলকাতায় পৌঁছালে প্রথমে তাকে হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বেসরকারি একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
 

বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্ঞান ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে গত সাত দিন ধরে তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি।
 

এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভিসা জটিলতায় পরিবারের সদস্যরা তার পাশে থাকতে পারছেন না। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরাম ও পরিবারের পক্ষ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনে আবেদন করা হলেও এখনো তার ছোট ভাইয়ের ভিসা অনুমোদন হয়নি।
 

বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি জানার পর থেকে কলকাতার হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। এছাড়া কলকাতায় অবস্থানরত জীমের এক ভারতীয় বন্ধু হাসপাতালে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। একই সঙ্গে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যায়।
 

জানা গেছে, বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে পরিবার।
 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীমের বোনের শ্বশুর চিকিৎসা নিতে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। তার সহযোগী হিসেবে জীম সেখানে যান। সেখান থেকে ফেরার পথেই তিনি এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
 

স্বজনদের আশা, উন্নত চিকিৎসা অব্যাহত থাকলে জীম আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। তবে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা পরিবারের রয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার স্বজনরা।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬