|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২১ জুন ২০২৬ ০৪:২১ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২১ জুন ২০২৬ ০১:৫৫ অপরাহ্ণ

যমুনায় পানি বাড়তেই ভাঙছে চরাঞ্চল


যমুনায় পানি বাড়তেই ভাঙছে চরাঞ্চল


যমুনা নদীতে পানি বাড়ায় সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জেলার চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ পয়েন্টে এরইমধ্যে প্রায় ১২০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ (বালুভর্তি বিশেষ ব্যাগ) ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

 

সিরাজগঞ্জ পাউবো সূত্র জানায়, উজানের ঢল এবং অভ্যন্তরীণ টানা ভারী বর্ষণের কারণে গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি বাড়লেও এই মুহূর্তে বিপৎসীমা অতিক্রম করার মতো কোনো আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন কর্মকর্তারা।

 

তারা জানান, গত তিনদিনে যমুনার পানি কাজীপুর পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার ও সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে। পানি বাড়লেও তা এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে কাজীপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩ দশমিক ২ মিটার এবং সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে ২ দশমিক ৬৫ মিটার নিচে রয়েছে যমুনার পানি।

 

সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, উজানের পানির চাপের কারণে গত কয়েক দিন ধরে যমুনার পানি বাড়ছে। বৃষ্টির কারণে আগামী কয়েক দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এখনই আতঙ্কের কিছু নেই, কারণ এই দফায় পানি বিপৎসীমা পার হওয়ার সম্ভাবনা কম।

 

পাউবোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত যমুনার পানি অন্তত পাঁচবার ওঠা-নামা করেছে। পানির এই ঘন ঘন ওঠা-নামার ফলেই চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনে চর সলিমাবাদ এলাকার পাঁচ থেকে ছয়টি ঘরবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি যমুনা গ্রাস করেছে। আকস্মিক এই ভাঙনের মুখে পড়ে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

স্থানীয় মোবারক হোসেন বলেন, গত ৪ জুন মাত্র এক দিনের ব্যবধানে যমুনা আমার ঘরটা গিলে খেলো। ঘরের কোনো জিনিসপত্র পর্যন্ত বের করার সময় পাইনি।

 

চৌহালী উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মওদুদ আহমেদ সবুজ বলেন, চর সলিমাবাদ পয়েন্টের প্রায় ১২০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। চর সলিমাবাদ এলাকায় নতুন একটি চর জেগে ওঠার কারণে নদীর মূল স্রোতটি সরাসরি তীরে এসে আঘাত করছে। আর এই কারণেই সেখানে আকস্মিক ও তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, ভাঙন ঠেকাতে পাউবো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এরইমধ্যে চর সলিমাবাদ পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করেছি যাতে ভাঙন আর অগ্রসর হতে না পারে।

 

এদিকে পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী প্রতিরক্ষামূলক কাজের দিকনির্দেশনা দিতে বৃহস্পতিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত চর এলাকা পরিদর্শন করেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬