|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৪ আগu ২০২৬ ০৬:৫৬ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৯ জুন ২০২৬ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

মাধবপুরে প্রকাশ্যে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার


মাধবপুরে প্রকাশ্যে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার


মো. নাজিমুল হাসান (নাজির),মাধবপুর প্রতিনিধি:


 

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট প্রশাসনের চোখের সামনেই সরকারি অনুমোদন ছাড়াই সোনাই নদী, বিভিন্ন ছড়া ও পাহাড়ি এলাকা থেকে দিন-রাত বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, পাশাপাশি পরিবেশ ও নদী ব্যবস্থাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
 

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার মনতলা, মনতলা চৌমুহনী, রসুলপুর ও শাহজীবাজার ছড়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হলেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট চারটি বালুমহাল ইজারা দেওয়া হলে সরকারি কোষাগারে প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব জমা হতো বলে দাবি তাদের।
 

খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩০ বাংলা সনে (২০২৩ সালে) মাধবপুরের রসুলপুর, মনতলা ও মনতলা চৌমুহনী বালু কোয়ারির ইজারা দেওয়া হয়েছিল। ওই ইজারা থেকে ভ্যাট ও করসহ প্রায় ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। তবে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে নতুন কোনো ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
 

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক সরকার গঠনের পর থেকেই রঘুনন্দন পাহাড়, শাহজীবাজার রাবার বাগান, সোনাই নদী এবং বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই শতাধিক ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
 

সরেজমিনে দেখা গেছে, রঘুনন্দন পাহাড়ের শাহজীবাজার রাবার বাগান সংলগ্ন এলাকা, সাতপাড়িয়া ছড়া, মনতাজ শাহ মাজারসংলগ্ন তেতুলতলা ছড়া, জেদ্দা ছড়া, সুরমা চা বাগানের রসুলপুর ছড়া, তেলিয়াপাড়া চা বাগানের সীমনা ছড়াসহ সোনাই নদীর বোরহানপুর, ভবানীপুর, দুর্লভপুর, আফজলপুর, বহরা, কাশিমপুর, আলাবক্সপুর, মনোহরপুর, মঙ্গলপুর, গাজীপুর ও আশ্রবপুর মৌজাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপকভাবে বালু উত্তোলন চলছে।
 

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে পাহাড়, নদী ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে সোনাই নদীর ওপর নির্মিত দুটি রাবার ড্যাম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
 

এ ঘটনায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এসব কারণে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য মনতলা সাধারণ বালুমহালের ইজারা নেন মাধবপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফিরোজ মিয়া। তার মালিকানাধীন মেসার্স শারমীন এন্টারপ্রাইজ কিসমতপুর ও মনোহরপুর মৌজার সাধারণ বালুমহালের ইজারা গ্রহণ করে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ বালুমহালের আড়ালে সোনাই নদীসংলগ্ন প্রায় ৩০টি মৌজা থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে।
 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, "আমরা শুধু ইজারাকৃত সাধারণ বালুই উত্তোলন ও বিক্রি করছি।"
 

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, "আমি নতুন যোগদান করেছি। কিছু বালুর নমুনা জব্দ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। সেগুলো সিলিকা বালু কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
 

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, সিলিকা বালুমহালের কোনো বৈধ ইজারা বর্তমানে নেই। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। চোরাই বালু পরিবহন ও উত্তোলন রোধে পুলিশকেও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬