|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:১৩ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:২৫ অপরাহ্ণ

মাস পেরোলেও তদন্ত হয়নি, মুরাদনগরের দুর্গারাম বিদ্যালয়ে ক্ষোভ


মাস পেরোলেও তদন্ত হয়নি, মুরাদনগরের দুর্গারাম বিদ্যালয়ে ক্ষোভ


💫 অভিযোগের পরও তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি,শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ছে, জবাবদিহিতার দাবি জোরালো...

 

রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর প্রতিনিধি:

 


কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দুর্গারাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে বিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। একইসঙ্গে কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালকের কার্যালয়েও অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

 

লিখিত অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে দরিদ্র তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থী ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি আদায়, এসএসসি-২০২৫ পরীক্ষার বেঞ্চ মেরামতের বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ, টিসি ও মূল সনদ প্রদানে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, পিয়ন দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো এবং প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষরের জন্য শিক্ষকদের বাড়িতে যেতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।

 

শিক্ষকদের দাবি, একক সিদ্ধান্ত ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ১১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭০ জন পাস করলেও ৪০ জন অকৃতকার্য হয় এবং মাত্র দুইজন জিপিএ-৫ অর্জন করে। চলতি বছরের প্রি-টেস্ট পরীক্ষায়ও ৮৫ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জন উত্তীর্ণ হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি স্পষ্ট হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

 

এদিকে বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি অফিস সহকারী ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক পিয়নের সংকটও রয়েছে, যা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এভাবে অব্যবস্থাপনায় পড়ে থাকতে পারে না। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে যথাযথ জবাব দেবেন।

 

এ বিষয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসার দেখবেন। তবে জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয়দের মতে, শিক্ষাখাতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬