|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৭ অপরাহ্ণ

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল নিবন্ধন, কিউআর কোড ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা


অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল নিবন্ধন, কিউআর কোড ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা


নিজস্ব প্রতিবেদক:


 

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে ডিজিটাল নিবন্ধন, কিউআর কোড ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে অটোরিকশা খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি অবৈধভাবে এক নম্বরের অধীনে একাধিক যান পরিচালনার সুযোগ বন্ধ করা হবে।
 

সোমবার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধির আওতায় সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অটোরিকশা ব্যবস্থাপনার জন্য ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে তৈরি ওই নীতিমালায় অটোরিকশা চালকদের কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
 

নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি অটোরিকশাকে ডিজিটালভাবে নিবন্ধনের আওতায় এনে কিউআর কোড ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। ফলে একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অবৈধভাবে একাধিক অটোরিকশা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।
 

অটোরিকশায় ব্যবহৃত ক্ষতিকর লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের ওপরও নীতিমালায় কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
 

তিনি বলেন, দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। এসব যান দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। বিপরীতে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রায় ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান দেশের গ্রামীণ ও নগর পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কম খরচে যাতায়াতের সুযোগের পাশাপাশি চালক, গ্যারেজকর্মী, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও চার্জিং সেবাদাতাসহ বিপুল মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
 

সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশের সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জড়িত ছিল।
 

এর আগে সংসদে দেওয়া নোটিশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে স্থাপিত ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ক্যামেরার মাধ্যমে লালবাতি অমান্য, লেন পরিবর্তন ও অতিরিক্ত গতিসহ বিভিন্ন ট্রাফিক অনিয়ম অনেকাংশে কমেছে। তবে নম্বর প্লেট না থাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ম শনাক্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রে জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
 

তিনি অটোরিকশা নিষিদ্ধ না করে নম্বর প্লেট, চালকদের প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় এনে এসব যান নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দেন। সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বলেন, অটোরিকশা জব্দ ও ডাম্পিংয়ের পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা, বিআরটিএর নিবন্ধন এবং এলাকাভিত্তিক রিকশা চলাচল ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
 

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধে ডিএমপি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এর ধারাবাহিকতায় তেজগাঁও ও রমনা বিভাগে আরও ২০০টি এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে।
 

তিনি বলেন, অটোরিকশা বন্ধ করা সরকারের লক্ষ্য নয়। বরং এসব যানকে নিবন্ধিত, ডিজিটাল ও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং অটোরিকশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের কর্মসংস্থান—সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নীতিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬