|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:১৪ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১৮ জুন ২০২৬ ০২:৪৫ অপরাহ্ণ

তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে কড়াইয়ের ছ্যাঁকা, পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার


তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে কড়াইয়ের ছ্যাঁকা, পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার


খুলনা ব্যুরো

 

খুলনায় তরকারি পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গৃহকর্মীকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে এক পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) পপি রানী সাহা মিত্র এবং তার স্বামী একই থানার এএসআই সঞ্জয় কুমার সরকার।
 

বুধবার দুপুরে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় ফেজের ৬ নম্বর সড়কের ৪১৯ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিত গৃহকর্মী মিলন দাশকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করে।
 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই দম্পতির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন মিলন দাশ। বুধবার রান্নার সময় অসাবধানতাবশত কড়াইতে আগুন ধরে তরকারি পুড়ে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে পপি রানী তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। অভিযোগ রয়েছে, গরম কড়াই শরীরে চেপে ধরার পাশাপাশি তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং কান ধরে ওঠবস করান।
 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটের দিকে বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে কয়েকজন সংবাদকর্মী ও নারী নেত্রী জানালা দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তারা দেখতে পান, এক নারীকে কানে ধরে ওঠবস করানো হচ্ছে এবং পরে গরম কড়াই তার শরীরে চেপে ধরা হচ্ছে। ঘটনাটি দেখে তারা দ্রুত বাসায় যান। তবে প্রথমে দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান পপি রানী। পরে ৯৯৯-এ ফোন করা হলে তার স্বামী সঞ্জয় কুমার সরকার বাসায় এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং স্ত্রীর ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
 

ঘরে প্রবেশের পর গৃহকর্মী মিলনের চোখের নিচসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান উপস্থিত ব্যক্তিরা।
 

এ বিষয়ে পপি রানী দাবি করেন, তরকারি পুড়ে যাওয়ায় তিনি রাগের বশে গৃহকর্মীকে ভয় দেখিয়েছিলেন, তবে মারধর করেননি। তিনি বলেন, মিলনকে পরিবারের সদস্যের মতোই দেখা হয় এবং ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
 

এদিকে বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী বাদী হয়ে পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দুজনকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে সঞ্জয় কুমার সরকারকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত পপি রানী সাহা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাতে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীরের ডান পাশের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 

সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “নির্যাতিত গৃহকর্মী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।”
 

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬