|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৫৩ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:০১ অপরাহ্ণ

আসামের হোটেলে এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ৫


আসামের হোটেলে এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ৫


অনলাইন ডেস্ক

 

ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটির একটি হোটেলে এলোপাতাড়ি গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে শহরের জিএস রোডসংলগ্ন বোরা সার্ভিস এলাকার ‘বিলাস ইন’ হোটেলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
 

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে হোটেলটি থেকে পরপর গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হোটেলের ভেতরের একটি কক্ষ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ছাড়া হোটেলের বাইরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও একজনকে পাওয়া যায়। তাঁকে দ্রুত গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
 

এ ঘটনায় হোটেলকর্মী সত্যেন্দ্র পাঠক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর হাতে গুলি লেগেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন হোটেলটির মালিক হেলেনা ভরালি, তাঁর ছেলে এষাণ কাশ্যপ ওরফে দেবর্ষি কাশ্যপ, তাঁর দাদা ভূদেব ভরালি, নারায়ণ দাস এবং একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
 

গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে জঙ্গি হামলা কিংবা আকস্মিক সশস্ত্র ছিনতাই বলে মনে হচ্ছে না। বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হোটেলটির মূল মালিক ছিলেন বরপেটার ব্যবসায়ী প্রয়াত ধ্রুব ভরালি। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী হেলেনা ভরালি ও পরিবারের সদস্যরা হোটেলটির মালিকানা পান। প্রায় এক বছর আগে হোটেলটি পরিচালনার দায়িত্ব ঘনকান্ত গগৈকে লিজ দেওয়া হয়। এরপর থেকে লিজ চুক্তি, বকেয়া অর্থ পরিশোধ এবং হোটেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
 

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সোমবার রাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতার একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘনকান্ত গগৈ পিস্তল বের করে হোটেলের মালিকপক্ষের সদস্য ও কর্মচারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
 

পুলিশ জানায়, গুলি চালানোর পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে পল্টনবাজার এলাকায় আত্মগোপনের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পয়েন্ট ৩২ বোরের একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
 

পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত বলেন, অপরাধে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটনে ফরেনসিক ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষা চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬