|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০২ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ১০ পর্যটকের মরদেহ ১০ দিন পর হস্তান্তর


কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ১০ পর্যটকের মরদেহ ১০ দিন পর হস্তান্তর


মঈনুদ্দিন শাহীন (কক্সবাজার):


কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের পোড়া মরদেহ ঘটনার ১০ দিন পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে পাঁচ পরিবারের স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বজনদের হাতে মরদেহ তুলে দেন। পাশাপাশি মরদেহ পরিবহন ও দাফন-কাফনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট আড়াই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
 

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ গ্রহণ করেন ঢাকার খিলগাঁও-মুগদা এলাকার আমিনুল ইসলাম খান। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নুর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবীর (৩৫) ও তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ফাইজান। এ ছাড়া রয়েছেন ফারিয়ার ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী জেরিফ (২৪)।
 

নিহত অপর তিনজন হলেন খিলগাঁও-মুগদা এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিমের তিন মেয়ে এবং ফারিয়ার তিন খালাতো বোন—ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (১৯)।
 

অন্যদিকে, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা আক্তার (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোবাইনা আক্তার (৯) ও সুনাইনা আক্তারের (৬) মরদেহ গ্রহণ করেন স্বজনেরা।
 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানান, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহত ১০ জনের মরদেহ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
 

নিহতদের স্বজন আমিনুল ইসলাম খান বলেন, “আমাদের ছয়জনের এবং যশোরের চারজনের মরদেহ বুঝিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। আমরা মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি।”
 

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ দিন অপেক্ষার পর স্বজনদের মরদেহ হাতে পেয়েছেন তাঁরা। এ মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি বলেন, যাঁদের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
 

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পাঁচ পরিবারের ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহ পরিবহন ও দাফনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট আড়াই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
 

তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের কেউ ছাড় পাবে না। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
 

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন তিনতলা টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগার দিনই ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ১০ দিন পর মঙ্গলবার মরদেহগুলো তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলো।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬