|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৮ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৫:৩৪ অপরাহ্ণ

মুরাদনগরে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ


মুরাদনগরে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ


রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

 

 

 

★ভেকু মেশিনে বিলের বুক চিরে মাটি সরবরাহ ইটভাটায়, ক্ষতিগ্রস্ত আবাদি জমি

 

 

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পীরকাশিমপুর পশ্চিম বিলে রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইকবাল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

 

 

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি বিলের আবাদি জমি থেকে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছেন। এতে হেক্টরের পর হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে এবং ভবিষ্যৎ আবাদ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

 

 

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন রাত নামলেই ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমি কাটার কাজ শুরু হয়। খণ্ড খণ্ড করে পুরো বিলের বুক চিরে মাটি তুলে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন জমি কেটে গভীর গর্তে পরিণত করা হয়েছে। রাতভর ড্রাম ট্রাকে করে সেই মাটি আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভেকু মেশিনের বিকট শব্দ ও ভারী যানবাহনের চলাচলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, পীরকাশিমপুর পশ্চিম বিল এলাকার জমিগুলো অত্যন্ত উর্বর। প্রতিবছর এসব জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। কিন্তু অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় গভীর গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে এসব জমিতে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় অবৈধভাবে মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইকবাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সেখানে কোনো মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত নই। স্থানীয়দের যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তারা আমার কাছে এসে কথা বলতে পারেন।

 

 

উপজেলার কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, খণ্ড খণ্ডভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে শুধু নির্দিষ্ট জমিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং আশপাশের জমির উর্বর টপসয়েল সামান্য বৃষ্টির পানিতেই ধুয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পার্শ্ববর্তী জমিগুলোর উৎপাদনশীলতাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

 

তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি রক্ষা করা যেমন প্রশাসনের দায়িত্ব, তেমনি সামাজিক দায়বদ্ধতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই অবাধে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

 

 

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান বলেন, কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউ যদি কৃষিজমি নষ্ট করে অবৈধভাবে মাটি কাটে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬