|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৫ আগu ২০২৬ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৫ আগu ২০২৬ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

ফারাক্কার সব গেট খোলার অনুরোধ, উজানের ঢলে বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত


ফারাক্কার সব গেট খোলার অনুরোধ, উজানের ঢলে বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত


নিজস্ব প্রতিবেদক

 

ভারতের বিহারে গঙ্গার পানি বাড়ায় ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। রোববার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এ অনুরোধ জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।
 

সম্রাট চৌধুরী বলেন, গঙ্গার পানি ক্রমেই বাড়ছে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দিলে গঙ্গার পানিপ্রবাহ বাড়বে এবং এতে বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হবে বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
 

এদিকে ফারাক্কা ব্যারাজ ও গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ চুক্তির বিষয়টি সামনে এনেছেন ভারতের জনতা দল (ইউনাইটেড-জেডিইউ)–এর রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় ঝা। তিনি বলেন, চুক্তি নবায়নের আগে বিহারের স্বার্থও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
 

১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এ চুক্তির ৩০ বছর পূর্ণ হবে। দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন ৫৪টি নদীর মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন এ চুক্তির আওতাভুক্ত। ফারাক্কা ব্যারাজকে কেন্দ্র করে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি বণ্টনের কাঠামোও এতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
 

লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত

অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, সংলগ্ন উত্তর ওড়িশা এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।
 

এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
 

আখাউড়ায় ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত

এদিকে ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী তিন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক ঢলের পানিতে মোগড়া, দক্ষিণ ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের বহু পরিবার।
 

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে বিতরণের জন্য ত্রাণসামগ্রীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
 

হবিগঞ্জে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত অন্তত ২০ গ্রাম

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাঁধে প্রায় দেড় মাস পর আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রবল স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে রাস্তা, ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।
 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানির স্রোতে গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। দেড় মাস আগে একই বাঁধ ভেঙে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন তারা।
 

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে কালীগঞ্জ বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬