|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২১ জুন ২০২৬ ০৯:৫৬ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২১ জুন ২০২৬ ০৭:৩৫ অপরাহ্ণ

বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, আরও ৫ জনের কারাদণ্ড


বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, আরও ৫ জনের কারাদণ্ড


বগুড়া ব্যুরো

 

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা-এ আট বছর বয়সী শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণ, হত্যা এবং মরদেহ গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। ঘটনার সময় নাবালক থাকা আরও পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
 

রোববার দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ১১ আসামির মধ্যে আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস ভোলাগাড়ী গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ও সাগর, খাদাস তালুকদারপাড়া গ্রামের সেলিম ইসলাম ও মেহেদী হাসান এবং খাদাস মাঠপাড়া গ্রামের রাজু ইসলাম ওরফে পাঁচফুল। এদের মধ্যে সেলিম ইসলাম ও সাগর দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।
 

ঘটনার সময় ১৮ বছরের নিচে থাকা পাঁচ আসামি—সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেনকে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালত তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
 

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত রিফাত হোসেন ওই এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। আসামিরা সবাই ছিলেন ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী ও পরিচিতজন। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই বিকেলে রিফাত নিখোঁজ হয়। তিন দিন পর পাশের এলাকার ভদ্রাবতী সেতুর নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
 

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক শাজাহানপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। বিচার চলাকালে এক আসামি মাসুদ রানা মারা গেলে তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগর জানান, এনামুল হক প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ তার কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই শিশুটিকে অপহরণ করে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে প্রমাণ মেলে।
 

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত রিফাতের বাবা এনামুল হক ও পরিবারের সদস্যরা। তিনি বলেন, সন্তানকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না, তবে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে।
 

এদিকে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মামলার নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬