দেশে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের সময় পেট্রল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের পেছনে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর গাফিলতি ছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানি সচিবের নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি, যার ফলে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রীর বলেন, পাম্পগুলোতে যে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছিল, তার পেছনে ‘কৃত্রিম’ কারণও ছিল এবং এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতিও ছিল। তার দাবি, সঠিকভাবে কাজ হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ৭৫ দিন পার হওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই সময়ে তিনি মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। পাশাপাশি খনিজ সম্পদ বিভাগেও এবারই প্রথম কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
এর আগে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। ইরান যুদ্ধকে ঘিরে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাম্পগুলোতে হঠাৎ দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়, যেখানে চালক ও ভোক্তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় নানা পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে দাম সমন্বয় এবং ফুয়েল পাস ব্যবস্থার সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য।
এসব উদ্যোগের ফলে ধীরে ধীরে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং পাম্পগুলোতে ভোগান্তিও কমে আসে।