গালফ নিউজ, আল জাজিরা : হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে আরব উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ইরানি উপকূলীয় প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার অঞ্চলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সামরিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিকে ইরানের জনগণের জন্য গর্ব ও শক্তির প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা এবং একইসঙ্গে অঞ্চলটিকে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে সামরিক অবস্থান আরও কঠোর করে ইরান। দেশটি জানায়, শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করলে তা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, তবে নিরপেক্ষ দেশগুলো ইরানের অনুমতি ও শর্তসাপেক্ষে এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে। এই প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে আইআরজিসি। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে নতুন কৌশলগত অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম । ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের উপপ্রধান মোহাম্মদ জাফর আসাদি দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সকে বলেন, ‘মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড মূলত গণমাধ্যমকেন্দ্রিক—প্রথমত তেলের দাম কমে যাওয়া ঠেকাতে এবং দ্বিতীয়ত তারা যে সংকট তৈরি করেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার উদ্দেশ্যে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকানদের যেকোনো নতুন দুঃসাহসিকতা বা বোকামির জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।’
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হলেও যুক্তরাষ্ট্র দসম্ভবত আরও ভালো অবস্থায়' থাকতে পারে, কারণ আলোচনায় আবারও অচলাবস্থার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ‘সত্যি বলতে, হয়তো কোনো চুক্তিই না করাই আমাদের জন্য ভালো। আপনি কি সত্যিটা জানতে চান? কারণ আমরা এই বিষয়টা এভাবে চলতে দিতে পারি না। অনেক দিন ধরেই এটা চলছে।’ এর আগে একই দিন ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সিএনএনকে ট্রাম্প জানান, সংঘাত নিরসনে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে তিনি সন্তুষ্ট নন।