সাংবাদিকদের মর্যাদা ও বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:৫৫ অপরাহ্ণ   |   ৪৫ বার পঠিত
সাংবাদিকদের মর্যাদা ও বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম মালিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড এবং সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, ‘যখন এটি নিশ্চিত করতে পারব, তখনই আপনাদের সম্মানজনক স্যালারি (বেতন) এবং মর্যাদা আমরা নিশ্চিত করতে পারব।’

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে ফটো সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

এ ছাড়াও, মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল), তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার ইয়াকুব আলী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সহ-সভাপতি রাশেদুল হক ও যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম যদি একটা শিল্প জগৎ হয়ে থাকে, তাহলে এই শিল্পকে অবশ্যই তার নিয়োগ পদ্ধতিটা হতে হবে আইন অনুযায়ী। যিনি ইনভেস্ট করবেন, তার ইনভেস্টমেন্টকে পাহারা দেওয়া বা লাভজনক করার দায়িত্ব যেমন তার, তেমনি সেখানে কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। আমরা ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাব।’

ফটো সাংবাদিকতার গুরুত্ব ও প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘একজন সাংবাদিকের কলম এবং ফটো সাংবাদিকের একটি ক্যামেরাই ছিল পেশাগত দায়িত্ব পালনের উপকরণ। কিন্তু আজকের প্রযুক্তির বিবর্তনে একটি ডিভাইস এখন টেলিভিশন, রেডিও, ক্যামেরা এবং কম্পিউটারের কাজ করছে। এই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফটো সাংবাদিকদের দক্ষ হতে হবে।‘

ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভবন ও প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য আপনাদের একটি ইনস্টিটিউট করা জরুরি। এই ভবনটি অবিলম্বে আপনাদের নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। পাশাপাশি একে একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা উচিত। যাতে আপনাদের মালিকানা ও আধুনিক পেশাগত দক্ষতা- দুটোই নিশ্চিত হয়।’

গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ একটি রোগের মতো। আজ যে গণতন্ত্রী কাল সে ফ্যাসিস্ট হয়ে যেতে পারে। তাই গণমাধ্যমকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই রোগের ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ। একারণেই সরকার গঠনের আগেই তিনি এমপি-মন্ত্রীদের বলেছেন- আমরা কোনো গাড়ি নিব না, প্লট নিব না। সূর্যোদয় দেখেই যেমন দিন বোঝা যায়, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট বরাদ্দের জায়গা থেকে বিরত রাখার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন ক্ষমতার ভাইরাস এই সরকারে প্রবেশ করতে পারবে না।’

বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ এর রাজনৈতিক বাস্তবতায় যারা নির্বাচিত সরকার দাবি করতেন, ২০২৪ এর ৫ আগস্ট তারা দুপুরের খাবারটাও খেতে পারেননি। ফ্যাসিবাদী তৎপরতার কারণে যারা সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বা যেসব ফটো সাংবাদিক শহীদ হয়েছেন, তাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

সভায় ফটো সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ ও অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।