রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। পেশি থেকে তৈরি হওয়া এই বর্জ্য পদার্থ সাধারণত কিডনি রক্ত থেকে ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। কিডনি ঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে রক্তে ক্রিয়েটিনিন জমতে শুরু করে। তবে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ, কিডনির সংক্রমণ এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ক্রিয়েটিনিন বাড়তে পারে।
এ কারণে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি খাবারের বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।
খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফাইবার রাখা উপকারী হতে পারে। এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফল, শাকসবজি ও দানাশস্য খাওয়া যেতে পারে। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের মাত্রা বিবেচনা করে আপেল, নাশপাতি বা পেঁপের মতো তুলনামূলক কম পটাশিয়ামযুক্ত ফল পরিমিত খাওয়া যেতে পারে।
অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়তে পারে। বিশেষ করে বেশি পরিমাণে রান্না করা লাল মাংস খেলে শরীরে ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। তাই অতিরিক্ত মাংসের পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সবজি, ডাল বা হালকা স্যুপ খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
পানিশূন্যতার কারণেও রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যেতে পারে। তবে কিডনির রোগে আক্রান্ত সবার জন্য একই পরিমাণ পানি পান উপযুক্ত নয়। কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি শরীরে জমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই দৈনিক কতটুকু পানি পান করা উচিত, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে, যা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। একই কারণে চিপস, ফাস্টফুড, ক্যানজাত খাবার, প্রক্রিয়াজাত মাংসসহ অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে আলু, টমেটো, কলা, কমলালেবু, দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবারসহ পটাশিয়াম বা ফসফরাস বেশি থাকা কিছু খাবার সীমিত করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব খাবার সবার জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। রক্তের পটাশিয়াম, ফসফরাস ও কিডনির কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদ খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করেন।
লাল মাংস ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংসও পরিহার বা সীমিত করা যেতে পারে।
ধূমপান কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত মদ্যপানও কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে এগুলো এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু নির্দিষ্ট খাবার খেয়ে ক্রিয়েটিনিন কমানো যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার কারণ নির্ণয় করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরীক্ষায় ক্রিয়েটিনিন বেশি এলে নিজের মতো করে খাবার বা পানি কঠোরভাবে কমানো-বাড়ানো না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।