তনু হত্যাকাণ্ড: দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন বোর্ড প্রধান

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০১:২৫ অপরাহ্ণ   |   ৫৩ বার পঠিত
তনু হত্যাকাণ্ড: দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন বোর্ড প্রধান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

 

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের এক দশক পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে বহুল আলোচিত এ মামলা। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি আবারও সামনে আসে। এর মধ্যেই দ্বিতীয় দফার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ওই বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা।
 

সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ বোর্ডের নেতৃত্বে দ্বিতীয়বার তনুর মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। প্রথম ময়নাতদন্তের প্রায় ১৫ দিন পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হলে সেটি পচাগলা অবস্থায় ছিল, ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলামত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
 

তিনি আরও বলেন, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মাধ্যমে তনুর ব্যবহৃত পোশাকসহ বিভিন্ন নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় এবং সেখানে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই তথ্য দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে কোথাও বলা হয়নি যে, ভুক্তভোগী স্বেচ্ছায় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। ডিএনএ তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা থেকেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 

ডা. কামদা প্রসাদ সাহা দাবি করেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যথাযথভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং এ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক।
 

অন্যদিকে, তনুর বাবা ও মামলার বাদী ইয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, তদন্তে নতুন অগ্রগতি দেখা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বিভ্রান্তিকর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
 

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরদিন একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।