

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, Package No: CDWSP/CUM/MURA/W-34 এর আওতায় সড়ক প্রশস্তকরণ ও আরসিসি উন্নয়ন কাজ চলাকালে নির্মিত প্যালাওয়াল পোস্টে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ে। পরে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পান।

পরিদর্শনে উঠে আসে, ত্রুটিপূর্ণ প্যালাওয়াল পোস্ট অপসারণ না করেই পুনঃব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া অনুমোদন ছাড়াই ‘বোরিং’ পদ্ধতিতে পোস্ট ড্রাইভ করা হয়েছে, যা প্রকল্পের নিয়মবহির্ভূত। ঢালাইয়ের মানও নিম্নমানের পাওয়া গেছে এবং পোস্টের দৈর্ঘ্যে ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত ঘাটতি দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, নতুন রডের পরিবর্তে রিজেক্টেড পুরনো রড ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাক্কলনে উল্লেখ থাকা ‘পাইল সু’ ব্যবহার ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
এলজিইডির কর্মকর্তারা এসব অনিয়মকে চুক্তির জিসিসি ক্লজ ৩৯.২ অনুযায়ী সরাসরি ‘Corrupt Practice’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম.এস. ট্রেডার্স ও চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ (জেভি)-কে দেওয়া লিখিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জিসিসি ক্লজ ৫৫ অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ কাজ বাতিল করা হয়েছে এবং ক্লজ ৫৬ অনুযায়ী ৩ দিনের মধ্যে সব অপসারণ করে পুনঃনির্মাণ করতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। তবে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, “ত্রুটিপূর্ণ সব প্যালাওয়াল পোস্ট রিজেক্ট করা হয়েছে। নির্ধারিত ৩ দিনের মধ্যে অপসারণ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজের গুণগত মানে কোনো আপস করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে সব ত্রুটিপূর্ণ কাজ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে অনিয়ম দূর করে নির্ধারিত মান অনুযায়ী পুনরায় কাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলজিইডি জানিয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। গুণগত মান নিশ্চিত করতে তদারকি আরও জোরদার করা হবে।