ঢাকা প্রেস, নিউজ ডেস্ক:
সিলেট বিভাগের পাথর ও বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারি ইজারা প্রদানের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিলেট বিভাগের পাথর/বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই।
মন্ত্রী জানান, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ (জিএসবি)-এর প্রতিনিধি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই জেলার পুলিশ সুপারদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরেজমিনে পাথর কোয়ারিগুলো পরিদর্শন করে সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে পলি জমার কারণে সৃষ্ট ওয়াটার ব্যারিকেড পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি নদীভাঙনের ফলে সীমান্ত পরিবর্তনের ঝুঁকি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে কত গভীরতায় ও কী পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করা সম্ভব—সেসব বিষয়ে কারিগরি মতামত দেওয়া হবে। এছাড়া বিছানাকান্দি, সাদা পাথর ও ভোলাগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সুরক্ষার বিষয়েও সুপারিশ করবে কমিটি।
তিনি আরও বলেন, জাফলংয়ের মতো ‘ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া’ (ইসিএ) ঘোষিত এলাকাগুলো ইজারার আওতার বাইরে থাকবে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপর আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এছাড়া পাথর কোয়ারি সংক্রান্ত উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।