দুধে ভেজাল শনাক্তে ঘরোয়া কিছু পরীক্ষা: সচেতন থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:৫২ অপরাহ্ণ   |   ৪৮ বার পঠিত
দুধে ভেজাল শনাক্তে ঘরোয়া কিছু পরীক্ষা: সচেতন থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

অনলাইন ডেস্ক

 

দুধ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। এতে ভিটামিন ডি, বি১২, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামসহ নানা উপকারী উপাদান থাকায় এটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তবে বাজারে সহজলভ্য সব দুধ যে খাঁটি—এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক ক্ষেত্রে দুধে পানি, স্টার্চ, ডিটারজেন্ট কিংবা বিভিন্ন সিন্থেটিক পদার্থ মিশিয়ে ভেজাল করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যাকেটজাত দুধ কেনার সময় ভেজাল শনাক্ত করা কঠিন হলেও বাসায় সহজ কিছু পদ্ধতিতে দুধ পরীক্ষা করা সম্ভব। ভেজাল ধরা পড়লে সেই দুধ পান না করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
 

ভেজাল দুধ চেনার কিছু সহজ উপায়:

ফেনা তৈরি হচ্ছে কিনা পরীক্ষা
একটি বোতলে দুধ নিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকালে যদি অতিরিক্ত ফেনা তৈরি হয়, তাহলে এতে ডিটারজেন্ট মেশানো থাকতে পারে। একইভাবে সমপরিমাণ পানি ও দুধ মিশিয়ে ঝাঁকালেও ফেনা হলে ভেজালের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সাদা দাগ পর্যবেক্ষণ
মসৃণ জায়গায় অল্প দুধ ঢেলে দিলে তা স্বাভাবিকভাবে গড়িয়ে যাওয়ার কথা। তবে যদি দুধের সাদা দাগ থেকে যায়, তাহলে তা ভেজালের ইঙ্গিত হতে পারে। খাঁটি দুধ সাধারণত এমন দাগ ফেলে না।

 

ডালের গুঁড়ো দিয়ে পরীক্ষা
একটি পাত্রে ১-২ চামচ দুধ নিয়ে তাতে সামান্য অড়হর বা সয়াবিন ডালের গুঁড়ো মেশান। কয়েক মিনিট পর লাল লিটমাস পেপার ডুবিয়ে দিলে তা নীল হয়ে গেলে দুধে ইউরিয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

লবণ মিশিয়ে রং পরিবর্তন দেখা
দুধের সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে দিলে যদি রং নীলচে হয়ে যায়, তবে এতে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় ভেজাল থাকতে পারে। রং অপরিবর্তিত থাকলে দুধ খাঁটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

 

ফোটানোর পর আয়োডিন পরীক্ষা
দুধ জ্বাল দিয়ে ঠান্ডা করার পর তাতে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন দিলে রং পরিবর্তন হলে বুঝতে হবে এতে স্টার্চ বা অন্য কোনো ভেজাল রয়েছে। খাঁটি দুধের রং অপরিবর্তিত থাকবে।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ভেজাল দুধ দীর্ঘদিন পান করলে হজমের সমস্যা, কিডনি জটিলতা ও অন্যান্য শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। তাই দুধ কেনা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।