ব্রেন-ডেড ব্যক্তির হাত প্রতিস্থাপনে নতুন জীবন পেলেন দুই সন্তানের মা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:১৩ অপরাহ্ণ   |   ২৯ বার পঠিত
ব্রেন-ডেড ব্যক্তির হাত প্রতিস্থাপনে নতুন জীবন পেলেন দুই সন্তানের মা

বিজ্ঞানের জয়যাত্রা আর মানবিকতার এক অনন্য মেলবন্ধনে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন দুই সন্তানের এক জননী। খড় কাটার মেশিনে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুই হাত হারানো সেই তরুণীর শরীরে সফলভাবে দাতার হাত প্রতিস্থাপন করেছেন দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। ব্রেন-ডেড এক ব্যক্তির অঙ্গদানের মহানুভবতায় এই অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছে।

কয়েক মাস আগে খড় কাটার মেশিনে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় ওই নারী তার দুটি হাতই হারান। এতে তিনি দৈনন্দিন কাজের জন্য অন্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। তার এই অসহায়ত্ব দূর করতে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল ১২ ঘণ্টার এক জটিল অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন। 

এতে প্লাস্টিক সার্জারি, হাড়, অ্যানেস্থেসিয়া এবং স্নায়ু বিভাগের বহু বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। চিকিৎসকরা তার ডান হাতটি কনুইয়ের ওপর থেকে এবং বাম হাতটি কবজির কাছ থেকে নিখুঁতভাবে প্রতিস্থাপন করেন।

অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া ডা. অনুভব গুপ্ত ও ডা. ভীম নন্দা জানান, এ ধরনের অস্ত্রোপচারে সময়ের ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দাতার হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর গ্রহীতার শরীরে রক্ত সঞ্চালন শুরু হওয়া পর্যন্ত টিস্যুগুলোকে সজীব রাখা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। হাড়, রক্তনালি এবং স্নায়ুগুলোকে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে হাতগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে। তারা এই সাফল্যকে কেবল একটি অস্ত্রোপচার নয়, বরং একজন মায়ের হারানো স্বপ্ন ফিরে পাওয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাতার পরিবারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তাদের মহৎ ত্যাগের কারণেই আজ এই নারী সন্তানদের নিজের হাতে স্পর্শ করার স্বপ্ন দেখছেন। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হাতগুলো পুরোপুরি কার্যকর হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। নিয়মিত ফিজিওথেরাপি, সঠিক ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে হাতের কর্মক্ষমতা ফিরে আসবে। ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই ঘটনাটি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।