টিকা কার্যক্রম শুরুর পর হামের প্রকোপ হ্রাস পেয়েছে

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০১:১১ অপরাহ্ণ   |   ৩৮ বার পঠিত
টিকা কার্যক্রম শুরুর পর হামের প্রকোপ হ্রাস পেয়েছে

স্বাস্থ্য খাতে পুষ্টি বৈষম্য কমানো ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর দেশে হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে শিশুর সুস্থ বিকাশ, হাম প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শক্ত ভিত গঠনে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ–২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, পুষ্টি একটি জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বর্তমানে হামের প্রকোপ আগের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে বেশি তীব্র দেখা যাচ্ছে, যার অন্যতম কারণ অপুষ্টি। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের মধ্যে এর প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধই সর্বোত্তম পুষ্টি। এটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শহরের কর্মজীবী মায়েদের মধ্যে স্তন্যপান করানোর প্রবণতা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে গ্রামের মায়েরা এখনো তুলনামূলকভাবে এই অভ্যাস বজায় রাখছেন বলে জানান তিনি।

ফাস্টফুড নির্ভরতা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে পরিবার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুষ্টি সপ্তাহকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দেশে এখনো দারিদ্র্য, লিঙ্গ বৈষম্য এবং সচেতনতার ঘাটতির কারণে পুষ্টি বৈষম্য বিদ্যমান রয়েছে। শিশুদের খর্বাকৃতি, অপুষ্টি এবং খাদ্য বৈচিত্র্যের অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

এ বছর জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ’।