ভারতের অন্যতম খ্যাতিমান আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন, যিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনার আলোকচিত্র ধারণের জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
রঘু রাইয়ের পরিবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম। তিনি দুই বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন বলে জানিয়েছেন রঘু রাইয়ের ছেলে আলোকচিত্রী নীতিন রাই।
সন্ধ্যায় লোধি রোড শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত ছিল তার সমৃদ্ধ কর্মজীবন। পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হলেও আলোকচিত্রকেই নিজের প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নেন।
মাত্র ২৩ বছর বয়সে বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ক্যামেরার সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি একজন খ্যাতিমান ফটোসাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে পরিচিতি পান। ভারতের নানা প্রান্তে ঘুরে তিনি দেশের বৈচিত্র্য, সমাজবাস্তবতা ও মানুষের জীবনচিত্র ক্যামেরায় তুলে ধরেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা, শিবসেনা প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরে এবং চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ছবি ধারণের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তার ক্যামেরায় উঠে এসেছে মাদার তেরেসার মতো মানবতাবাদী ব্যক্তিত্বও।
আলোকচিত্রে অবদানের জন্য দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোকচিত্র ধারণের জন্য তিনি প্রশংসিত হন। ১৯৭২ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন প্রখ্যাত এই আলোকচিত্রী।