যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা এস বৃষ্টির হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
আদালতের নথির বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়েহ হত্যাকাণ্ডের আগে এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির কাছে মৃতদেহ গুমের উপায় সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিহত দুই শিক্ষার্থী ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন এবং নাহিদা এস বৃষ্টি। অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহ ছিলেন লিমনের সাবেক রুমমেট। তাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, মৃতদেহ গুম এবং আলামত নষ্ট করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রসিকিউটরদের আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন আগে আবুগারবিয়েহ চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান- কীভাবে একজন ব্যক্তির মরদেহ ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে রাখা হলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয় কি না। এছাড়া পুলিশের তদন্ত এড়ানোর উপায় সম্পর্কেও প্রশ্ন করেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সময়সীমায় আবুগারবিয়েহর ডাস্টবিন থেকে জামিল লিমনের আইডি কার্ড ও ব্যাংক কার্ড উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাস্টবিনে পাওয়া কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী থেকে দুই শিক্ষার্থীর ডিএনএ শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমনের মরদেহ একটি প্লাস্টিক ব্যাগে আবৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে নাহিদা বৃষ্টির দেহাবশেষের সন্ধান এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, তবে তদন্তকারীরা মনে করছেন তিনিও একই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
প্রসিকিউটররা আরও জানান, ঘটনার রাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী কিনেছিলেন এবং পরবর্তীতে তার অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। সিসিটিভি ও লোকেশন ডেটা বিশ্লেষণেও তার উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে।
প্রথমে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ডিজিটাল প্রমাণ উপস্থাপনের পর তার বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া যায় বলে জানায় তদন্তকারী সংস্থা।
বর্তমানে হিশাম আবুগারবিয়েহকে কারাগারে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের অনুমতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছে।