ডিজিটাল নিরাপত্তায় ঢাকা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ   |   ৬৫ বার পঠিত
ডিজিটাল নিরাপত্তায় ঢাকা

ঢাকা মহানগরীকে একটি নিরাপদ, আধুনিক এবং স্মার্ট মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নাগরিক সেবা হাতের মুঠোয় পৌঁছে দিতে এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ৯টি অত্যাধুনিক অ্যাপ ও সফটওয়্যার উদ্বোধন করা হয়েছে। একইসাথে রাজধানীর আনাচে-কানাচে বসানো ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা সক্রিয় করার মাধ্যমে পুরো ঢাকাকে এখন থেকে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

 

স্মার্ট পুলিশিংয়ের উদ্বোধন : গতকাল বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এসব ডিজিটাল টুলের উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

আইজিপি তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই সফটওয়্যারগুলোর মাধ্যমে পুলিশের কাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। আমরা পুলিশকে আরও জনবান্ধব করতে চাই। প্রযুক্তির ব্যবহার অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ করবে এবং অপরাধের হার কমিয়ে আনবে।’ উদ্বোধন হওয়া ৯টি অ্যাপ ও সফটওয়্যার হলো- ১. এআই বেজড রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ভায়োলেশন ডিটেকশন সিসটেম: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে। ২.হ্যালো ডিএমপি অ্যাপ: সাধারণ নাগরিকরা এই অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং দ্রুত পুলিশি সেবা পাবেন। ৩. হোটেল বোর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেম: রাজধানীর হোটেলগুলোতে অবস্থানকারীদের তথ্য দ্রুত যাচাই ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা। ৪. ডিএমপি অনলাইন ট্রেনিং সিস্টেম: পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম। ৫. ডিএমপি লিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম: পুলিশ সদস্যদের ছুটি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল সিস্টেম। ৬. রেসিডেন্স অ্যালোকেশন সিস্টেম: পুলিশ আবাসন বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজড করা। ৭. ট্রাফিক ডিউটি ডিস্ট্রিবিউশন সফটওয়্যার: ট্রাফিক সার্জেন্ট ও কনস্টেবলদের ডিউটি বণ্টন হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। ৮. এমপ্লয়ি পারফর্মেন্স ইভ্যালুয়েশন: কর্মকর্তাদের কাজের মান যাচাইয়ে পারফরম্যান্স ট্র্যাকার। ৯. ডিএমপি ট্রাফিক নিউজ আর্কাইভ: ট্রাফিক সংক্রান্ত ঐতিহাসিক তথ্য ও খবরের ভাণ্ডার।

 

নজরদারিতে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা : অনুষ্ঠানে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সারওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে ডিএমপির কমান্ড সেন্টার থেকে পুরো ঢাকা শহরকে ২৪ ঘণ্টা মনিটর করা হবে।

 

কমিশনার আরও যোগ করেন, ‘ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে আমরা কেবল সিসি ক্যামেরায় সীমাবদ্ধ থাকছি না; খুব দ্রুত রাজধানীর প্রতিটি বাড়ির ভাড়াটিয়াদের তথ্যও সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করা হবে।’

 

নাগরিক জীবনে প্রভাব, কী মিলবে ‘হ্যালো ডিএমপি’ অ্যাপে : সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ‘হ্যালো ডিএমপি’ অ্যাপ। এর মাধ্যমে কোনো প্রকার থানায় না গিয়েই নাগরিকরা জরুরি সেবা ও তথ্য পাবেন, অপরাধ বা হয়রানির অভিযোগ জানানো যাবে সরাসরি, অভিযোগের অগ্রগতি অ্যাপের মাধ্যমেই ট্র্যাক করা যাবে, জরুরি প্রয়োজনে নিকটস্থ থানার অবস্থান ও কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের লিংক পাওয়া যাবে।

 

বিশ্লেষণ- কেন এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ডিজিটাল রূপান্তর মূলত তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে করা হয়েছে- স্বচ্ছতা, গতি এবং নির্ভুলতা। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহারের ফলে ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ গ্রহণ বা হয়রানির অভিযোগ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ডিজিটাল নজরদারির কারণে ছিনতাই, কিশোর গ্যাং এবং চুরির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এক ধাপ এগিয়ে থাকবে।

 

পরিশেষে, ডিএমপির এই ৯টি অ্যাপ এবং ১১ হাজার সিসি ক্যামেরার সমন্বিত কার্যক্রম ঢাকাবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই প্রযুক্তির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করাও ডিএমপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। পুলিশের এই ‘স্মার্ট’ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা সময় বলে দেবে।