এবি ব্যাংকের ৪৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ, চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর ১১ বছর কারাদণ্ড

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৩ মে ২০২৬ ০৪:১৬ অপরাহ্ণ   |   ৫৫ বার পঠিত
এবি ব্যাংকের ৪৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ, চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর ১১ বছর কারাদণ্ড

এবি ব্যাংক লিমিটেড চট্টগ্রাম নগরীর জুবিলী রোড শাখার প্রায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় জেলার সীতাকুণ্ডের তানহা স্টিলের মালিক গিয়াস উদ্দিন প্রকাশ কুসুম নামের এক ব্যবসায়ীকে ১১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের আদালত। 

রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গিয়াস উদ্দিন প্রকাশ কুসুম (৫৩) সীতাকুণ্ড থানার উত্তর ছলিমপুর এলাকার মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে। 

আরেক আসামি মোহাম্মদ নুরুন্নবীকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায়, তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় গিয়াস উদ্দিনকে পাঁচ বছর ও ৪২০ ধারায় এক বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

এ ছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় তাকে আরও পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আসামিকে ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। 
অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গিয়াস উদ্দিন পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। 

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন এবি ব্যাংক লিমিটেডের জুবিলী রোড শাখা থেকে বৈদেশিক ও স্থানীয় এলসির মাধ্যমে প্রায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। 

এলসির বিপরীতে আনা পণ্য ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে না রেখে বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয় এবং ঋণের অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।

এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ এবি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। 

পরে তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। 

২০২১ সালের ৭ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।