নতুন করে টাকা ছাপানোর পথে সরকার, মূল্যস্ফীতি নিয়ে পিআরআইয়ের উদ্বেগ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:০২ অপরাহ্ণ   |   ৪৪ বার পঠিত
নতুন করে টাকা ছাপানোর পথে সরকার, মূল্যস্ফীতি নিয়ে পিআরআইয়ের উদ্বেগ

দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন এক শঙ্কার খবর দিলেন বিশ্লষকরা। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার আবারও টাকা ছাপিয়ে বাজার সচল রাখার পথে হাঁটছে।

কেবল মার্চ মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যাকে অর্থনীতিবিদরা ‘হাইপাওয়ার মানি’ বা সরাসরি ছাপানো টাকা হিসেবে অভিহিত করছেন। এর ফলে দেশের বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে পিআরআই-এর নিজস্ব কার্যালয়ে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা শীর্ষক এক সেমিনারে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে পিআরআই-এর মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান সরকারের এই অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেন। 

তিনি বলেন, ‘মার্চ মাসে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, তা মূলত নতুন ছাপানো টাকা। যখন বাজার থেকে সরাসরি টাকা না তুলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে নেওয়া হয়, তখন বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যায়, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর আঘাত হানে এবং মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের প্রবণতা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। দীর্ঘমেয়াদে এটি সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করতে পারে।

আশিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সরকারের সাম্প্রতিক সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে আসার প্রবণতাকে ‘আত্মঘাতী’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, আমরা সংস্কার থেকে পিছিয়ে গেলে তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপদ বয়ে আনবে। ব্যাংক খাতের রেজোল্যুশন বা সংকট নিরসন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা এখন সময়ের দাবি। 

সরকার সংস্কার থেকে পিছিয়ে এসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ক্রেডিট রেটিংয়ের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।