ই-সিগারেট ও ভ্যাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সর্বোচ্চ ৬ মাস জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৫২ অপরাহ্ণ   |   ৩৪ বার পঠিত
ই-সিগারেট ও ভ্যাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সর্বোচ্চ ৬ মাস জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা

তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিদ্যমান আইনকে শক্তিশালী করে প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হয়েছে।
 

সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের উদীয়মান (ইমার্জিং) তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 


 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
 

অধ্যাদেশে সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে। আগে এ জরিমানার পরিমাণ ছিল ৩০০ টাকা, যা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
 

তামাকের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায়ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন ও প্রচারণাও বন্ধ করা হয়েছে। তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা গ্রহণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
 

এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের চারপাশে ১০০ মিটার এলাকায় তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ শিশু ও তরুণদের তামাক ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
 

নতুন অধ্যাদেশে কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহারও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে পৃথক Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল হয়ে একীভূত আইনের আওতায় বিষয়টি কার্যকর হলো।
 

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও ছবি প্রদর্শন করতে হবে।
 

সরকারের মতে, এসব বিধান জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার করা এবং তামাক ব্যবহারের হার কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।