পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল: ১৫ বছরের শাসনের অবসান, ক্ষমতায় বিজেপি

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৫ মে ২০২৬ ০৯:২০ অপরাহ্ণ   |   ৬৩ বার পঠিত
পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল: ১৫ বছরের শাসনের অবসান, ক্ষমতায় বিজেপি

ঢাকা প্রেস, নিউজ ডেস্ক:

 

 

দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানে একসময় বামফ্রন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করে সরকার গঠন করা মমতা ব্যানার্জি-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এবার বড় পরাজয়ের মুখে পড়েছে। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হলো।

 

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৭ আসনের তুলনায় অনেক বেশি আসন পেয়ে সহজেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮১টি আসন। এছাড়া সিপিএম ১টি, কংগ্রেস ২টি এবং অন্যান্যরা ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে।

 

নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হলো, রাজ্যের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুটি আসনেই জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে নিজ আসনেই পিছিয়ে পড়ে পরাজিত হন মমতা ব্যানার্জি। কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল কেন্দ্রে ভোট গণনার বিভিন্ন ধাপে তার পিছিয়ে পড়ার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের প্রতীকী মুহূর্তে পরিণত হয়।

 

ফল ঘোষণার পর সোমবার সন্ধ্যায় মমতা ব্যানার্জি গণমাধ্যমকে বলেন, “বিজেপি ১০০টি আসন লুট করেছে।” তবে তিনি সরাসরি ফলাফল প্রত্যাখ্যান না করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানান এবং রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন।

 

অন্যদিকে, রাজধানী দিল্লিতে দলের সদর দপ্তরে বিজয়োৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এই ঐতিহাসিক জয় বহু বছরের কর্মীদের ত্যাগ ও পরিশ্রমের ফল।” গণতন্ত্রের মূল্যবোধ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “জয়-পরাজয় গণতন্ত্রের অংশ। এটি গণতন্ত্র ও সংবিধানের বিজয়।” পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বদলা নয়, বদল।”

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিজেপির জয়কে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নতুন সরকার সব শ্রেণির মানুষের উন্নয়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

 

এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক বার্তায় বলেন, এই ফলাফল তোষণমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণের স্পষ্ট বার্তা।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন হঠাৎ নয়; বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। তাদের ভাষ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও কর্মসংস্থান, স্থায়ী উন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মতো বিষয়ে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার প্রভাব ভোটে পড়েছে।

 

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, ২০২৬ সালে সেই একই রাজ্যে আরেকটি বড় রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী হলো পশ্চিমবঙ্গ।