এক পরীক্ষিত রাজনৈতিক ছায়ার অবসান: অহিংস বার্তায় খালেদা জিয়ার বিদায়

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:২৮ অপরাহ্ণ   |   ৩৬ বার পঠিত
এক পরীক্ষিত রাজনৈতিক ছায়ার অবসান: অহিংস বার্তায় খালেদা জিয়ার বিদায়

ঢাকা: ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়—শেষবারের মতো রাজনীতির মঞ্চে এমন এক অহিংস বার্তাই রেখে গেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রক্ষমতা, কারাবাস, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও দীর্ঘ অসুস্থতার কঠিন পথ পেরিয়ে তিনি চলে গেছেন সর্বজনের সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে—যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 

বিশ্লেষকদের মতে, সংযম ও সহনশীলতার এই উচ্চারণ বিএনপির সামনে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার দরজা খুলে দিয়েছে। তাঁর বিদায় শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রস্থান নয়; এটি বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত রাজনৈতিক ছায়ারও অবসান।
 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, ইতিহাসের এই বৃহত্তম জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষেরা কেবল বিএনপির আদর্শের কারণে নয়, বরং দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই এসেছেন। তাঁর মতে, এই জনসমাগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত মর্যাদারই প্রতিফলন।
 

লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এই জানাজাকে বিএনপির জন্য সরাসরি গণভোট হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। এটি অবশ্যই এক ধরনের গণভোট, তবে তা বিএনপির জন্য নয়—এটি শ্রদ্ধার গণভোট। তিনি যোগ করেন, বিএনপির জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি সোনালি মুহূর্ত। এক সপ্তাহ আগেও হয়তো দলটির অনেক সংগঠক কল্পনা করতে পারেননি যে নেতৃত্বের প্রতি মানুষের এমন গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এমন মুহূর্ত খুবই বিরল।
 

আলতাফ পারভেজ আরও বলেন, খালেদা জিয়া যে সম্মান ও মর্যাদায় আসীন হয়েছেন, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ধরে রাখতে হলে বিএনপিকে আগামী দিনে জনবান্ধব রাজনীতিতে এগোতে হবে। সেটিই এখন দলটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
 

এদিকে সামনে জাতীয় নির্বাচন। নতুন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং প্রায় চার কোটি নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার মুখে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দাঁড়িয়ে আছে এক নতুন বাস্তবতায়। এ প্রসঙ্গে ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, কোনো নেতা শুধু নিজের গুণেই নয়; তাঁর পেছনে পরিবার ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অবদান থাকে। সেই সূত্রে একটি আস্থার জায়গা তৈরি হয়, তবে সেটিকে ধরে রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।
 

আলতাফ পারভেজের মতে, খালেদা জিয়া কখনও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা বিদ্বেষপূর্ণ, আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেননি। তাঁর ছেলে তারেক রহমানও এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেননি। পরিবারের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়নের পরও তিনি কাউকে দোষারোপ বা প্রতিশোধের ভাষায় কথা বলেননি। এই মনোভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ মানুষ আর প্রতিশোধের চক্রে যেতে চায় না।
 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার বিদায়ের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটল। তাই ভবিষ্যতে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের জন্য তাঁর আদর্শ, সংযম ও অহিংস রাজনৈতিক চর্চাকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়াই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও করণীয়।