রাষ্ট্রের পচন শুরু হলে কোনো খাতই রেহাই পায় না

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৭ মে ২০২৬ ০৪:৪২ অপরাহ্ণ   |   ৫৬ বার পঠিত
রাষ্ট্রের পচন শুরু হলে কোনো খাতই রেহাই পায় না

দেশের সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, রাষ্ট্রে অবক্ষয় শুরু হলে কোনো খাতই এর প্রভাব থেকে বাদ পড়ে না।

 

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষাখাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

রুমিন ফারহানা বলেন, গ্রামাঞ্চলে গেলে যেন ভিন্ন এক বাংলাদেশের চিত্র দেখা যায়। অনেকেই শুধু অর্থের প্রভাব ব্যবহার করে সংসদ সদস্য হওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকেন। তবে তার মতে, জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

 

তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের সন্তানদের স্থানীয় বা অন্তত জেলা পর্যায়ের স্কুলে পড়ানো বাধ্যতামূলক করা উচিত। একইভাবে জনপ্রতিনিধিদের নিজ এলাকার চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করাও বাধ্যতামূলক হওয়া দরকার বলে তিনি মত দেন। তার বিশ্বাস, এ ধরনের নিয়ম চালু হলে ধনী ও ঋণখেলাপিরা শুধু অর্থের জোরে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে এগোতে পারবে না।

 

শিক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ, প্রাথমিক স্তরের অনেক শিক্ষার্থী এখনো পাঠ্যবই ঠিকভাবে পড়তে পারে না বা শুদ্ধভাবে একটি ইংরেজি বাক্য লিখতে পারে না। তার মতে, উন্নত দেশে সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষকতায় আসেন, অথচ দেশে অনেক ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষকরা আর্থিক চাপে কোচিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি সামাজিক বাস্তবতায় শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এখনো অনেক এলাকায় শিক্ষার্থীরা হাঁটুপানি পেরিয়ে স্কুলে যায় এবং পর্যাপ্ত রাস্তা নেই। তাই আগে মৌলিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি, এরপর প্রযুক্তি বা অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া উচিত।

 

সবশেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্রে যখন অবক্ষয় শুরু হয়, তখন তা কোনো নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না-সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়ে।