গণভোটের রায় না মানলে সংকটে পড়বে দেশ : শিশির মনির

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৩ অপরাহ্ণ   |   ৭২ বার পঠিত
গণভোটের রায় না মানলে সংকটে পড়বে দেশ : শিশির মনির

জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে দেশ নতুন করে সাংবিধানিক ও অনাস্থার সংকটে পড়বে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। গণভোটের ফলাফল মেনে নিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার সভার (কনস্টিটিউশনাল রিফর্ম অ্যাসেম্বলি) অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে কি-নোট পেপার উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

এ সময় রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটারে পরিণত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী।

তিনি বলেন, মূলত রাজনৈতিকভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য বিষয়গুলো আদালতের ‘সাবজেক্ট ম্যাটার’ বানানোয় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

শিশির মনির বলেন, ইতিহাসে কোথাও গণঅভ্যুত্থান সংবিধান মেনে সংঘটিত হয়নি। এটি সবসময়ই সংবিধানের বাইরে থেকে ঘটে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এই ধরনের রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও আদালতের বিচার্য বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালত খোলার পর সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়টি উত্থাপিত হবে এবং আদালত স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে এ বিষয়ে সরকারের বিপক্ষে রায় দেওয়াই উচিত হবে।

সংবিধান সংস্কারের কাঠামো ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি সংস্কার সভা গঠন করা উচিত, যেখানে সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কাঠামোয় রূপ নিতে পারে। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে তা ইতিহাসে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণভোটের রায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং তা বাস্তবায়ন করা হয়। জনগণের রায় উপেক্ষা করলে রাষ্ট্রব্যবস্থায় অনাস্থা তৈরি হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে প্রবর্তিত একটি ব্যবস্থাকে আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছিল, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেশের ওপর পড়েছে। পরবর্তীতে একই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকেই তুলে ধরে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় এর প্রতিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ওপরই ফিরে আসতে পারে।