স্বামীর মৃত্যুর ১৩ ঘণ্টার মধ্যে স্ত্রীর মৃত্যু, রাজবাড়ীতে শোকের ছায়া

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৬ মে ২০২৬ ০৮:৩৮ অপরাহ্ণ   |   ৫১ বার পঠিত
স্বামীর মৃত্যুর ১৩ ঘণ্টার মধ্যে স্ত্রীর মৃত্যু, রাজবাড়ীতে শোকের ছায়া

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি


 

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাইককান্দি গ্রামে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন পাইককান্দি গ্রামের বাসিন্দা ভ্যানচালক মিঠু খান (৫২), তিনি মৃত আব্দুস ছাত্তার খানের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে বেলা ২টার দিকে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
 

স্বামীর মৃত্যুতে গভীরভাবে ভেঙে পড়েন তাঁর স্ত্রী হেনা বেগম (৪৫)। স্বামীর দাফনের পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর বিকেল ৪টার দিকে তাঁরও মৃত্যু হয়।
 

এ ঘটনায় মিঠু খানের মা ছালেহা বেগম (৭৫) এবং তাঁর সাত বছর বয়সী নাতনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 

স্থানীয় বাসিন্দা মাকসুদ রনি জানান, “একই দিনে স্বামী-স্ত্রীর এমন মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সবাই গভীরভাবে ব্যথিত।”
 

সাংবাদিক গোলাম মোর্তবা রিজু বলেন, “প্রায় ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে দম্পতির এমন আকস্মিক মৃত্যু এলাকাবাসীকে নাড়া দিয়েছে। চারদিকে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।”
 

মিঠু-হেনা দম্পতির একমাত্র সন্তান হাফিজুর রহমান জানান, বাবার মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই তাঁর মা বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন। বাবার মরদেহ জানাজার জন্য নেওয়ার সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তিনি চেতনাহীন হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।
 

স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম খান আকরাম বলেন, স্বামীর মৃত্যুতে হেনা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র মানসিক আঘাতের কারণেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে মৃত্যু হয়েছে।