|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:১৫ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০২:২৪ অপরাহ্ণ

রূপপুর থেকে কতদিন মিলবে বিদ্যুৎ, জানালেন সংশ্লিষ্টরা


রূপপুর থেকে কতদিন মিলবে বিদ্যুৎ, জানালেন সংশ্লিষ্টরা


ঢাকা প্রেস প্রতিবেদক

 

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন মাইলফলক যুক্ত হতে যাচ্ছে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে।
 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। এই সময়জুড়ে কেন্দ্রটি থেকে ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে এর আয়ুষ্কাল আরও প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
 

জ্বালানি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানা গেছে, একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে টানা প্রায় দেড় বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এরপর ধাপে ধাপে এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। ফলে তেল, গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো নিয়মিত জ্বালানি আমদানির চাপ থাকবে না।
 

প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। মোট ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে দেশটি, যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রূপপুরে ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তিতে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা-এর কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করে।
 

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. প্রীতম কুমার দাস বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সামান্য ত্রুটিও প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা তৈরি করতে পারে। তাই রূপপুর প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনেকটাই ‘শূন্য ত্রুটি নীতি’র ওপর নির্ভরশীল।
 

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে পুনরায় ব্যবহার করার সম্ভাবনাও রয়েছে। রাশিয়ার ‘ফাস্ট নিউট্রন’ প্রযুক্তির মতো পদ্ধতি প্রয়োগ করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ আরও কমে আসতে পারে।
 

এদিকে, পরিবেশগত দিক থেকেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন টন এবং গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় প্রায় ৮ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হবে এই কেন্দ্র। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬