|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০২ জুলাই ২০২৬ ০৬:০২ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০২ জুলাই ২০২৬ ০৪:৩৪ অপরাহ্ণ

আইনি জটিলতা কাটায় দ্রুত শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী


আইনি জটিলতা কাটায় দ্রুত শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী


ঢাকা প্রেস প্রতিবেদক

 

দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হওয়ায় দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ফলে শূন্য হয়ে যাওয়া সহকারী শিক্ষক পদেও দ্রুত নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
 

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।
 

তিনি বলেন, জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে ৫০ শতাংশ অভিজ্ঞতা গণনার দাবিতে ২০১৭ সালে ৩৮৩ জন শিক্ষক মামলা করেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমও আটকে ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
 

মন্ত্রী জানান, গত সপ্তাহে আদালতের রায়ের মাধ্যমে সরকারের অবস্থান বহাল থাকায় দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। ফলে এখন দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের পথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি পদোন্নতির কারণে যেসব সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হবে, সেগুলোতেও নতুন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
 

তিনি বলেন, এই রায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট নিরসনে যে বাধা ছিল, তা দূর হয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
 

ড. এহছানুল হক মিলন আরও জানান, সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষককে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দ্রুত প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। আগে নয় মাসের প্রশিক্ষণ থাকলেও বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে দুই মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বিদ্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
 

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতেও শিক্ষক সংকট রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি কলেজে প্রায় চার হাজার এবং সরকারি বিদ্যালয়েও প্রায় চার হাজার শিক্ষকের পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সচিবদের দ্রুত শূন্য পদের চাহিদাপত্র প্রস্তুত করে পিএসসিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 

তিনি বলেন, পিএসসির চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন, প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র হাতে পেলেই বিশেষ ব্যবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সরকারি বিদ্যালয় এবং সরকারি কলেজের শিক্ষক নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
 

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রাথমিক স্তর থেকেই দক্ষ, নৈতিক ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে আনন্দময় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং কার্যকর পাঠদানকে সমন্বিত করে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণেও এসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
 

এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষায় অংশ নিত। এবার সুষ্ঠু পরীক্ষা আয়োজন, নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং অভিভাবকদের সচেতনতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এ কারণেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমে থাকতে পারে।
 

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬