|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০১ মে ২০২৬ ১২:২৯ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ জোরদারের ইঙ্গিত, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়াল   


যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ জোরদারের ইঙ্গিত, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়াল   


অনলাইন ডেস্ক

 

 

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে।
 

বুধবার বৈশ্বিক সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২০ ডলার অতিক্রম করে এবং একপর্যায়ে তা ১২২ ডলারে পৌঁছে যায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং সরবরাহ ঝুঁকি বৃদ্ধিই এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
 

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। বৈঠকে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর জ্বালানি সংকটের প্রভাব কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
 

বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বৈঠক হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
 

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন, ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি, তেলের ফিউচার বাজার, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নৌপরিবহনসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। তবে প্রশাসন একে জ্বালানি খাতের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার অংশ হিসেবেই উল্লেখ করেছে।
 

এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বাড়াতে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জোরদারের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
 

এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
 

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে।
 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে। পরবর্তীতে তেহরান সতর্ক করে দেয়, প্রণালির কাছাকাছি আসা যেকোনো নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগামী জাহাজ প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়।
 

বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও ইরানের বন্দর থেকে ছেড়ে আসা অন্তত চারটি জাহাজ অবরোধ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
 

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দামে ওঠানামা দেখা গেছে, তবুও বর্তমান মূল্য সংঘাত-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ১৭ এপ্রিল ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে নেমে এলেও, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকায় গত ১২ দিনে তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬