|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৪ মে ২০২৬ ০৪:৪০ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৪ মে ২০২৬ ০২:২৩ অপরাহ্ণ

তামিলনাড়ুর মসনদে বিজয়ের রাজকীয় অভিষেক


তামিলনাড়ুর মসনদে বিজয়ের রাজকীয় অভিষেক


দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে আজ এক নতুন সূর্যোদয় ঘটেছে। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, সুপারস্টার বিজয়ের নবগঠিত দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (TVK) ৮০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে থেকে রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। 

 

মাত্র দুই বছর আগে গঠিত একটি দল যেভাবে শাসক দল ডিএমকে (DMK)-কে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, তা দেখে স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর এখন চেন্নাইয়ের রাজনৈতিক অলিন্দে একটিই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে, বিজয় এবং এআইএডিএমকে কি জোট গড়বে? 

 

২৩৪ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১১৮। বর্তমান গণনা অনুযায়ী, কোনো একটি নির্দিষ্ট দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিজয় তাঁর প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই যেভাবে ১০০-র কাছাকাছি আসনের দিকে এগোচ্ছেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে রাজ্যের মানুষ প্রথাগত দুই দল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র বাইরে এক শক্তিশালী বিকল্প বেছে নিয়েছেন।

 

নির্বাচনের আগে বিজয় এবং এআইএডিএমকে-র মধ্যে জোট নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকটি কারণে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়। 

 

টিভিকে (TVK) দাবি করেছিল যে, জোট হলে বিজয়কেই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং অর্ধেক আসন (১১৭টি) ছাড়তে হবে। একাধিকবার ক্ষমতায় থাকা এআইএডিএমকে একজন নবাগত রাজনীতিকের কাছে এভাবে নতি স্বীকার করতে রাজি হয়নি। জোট ভেস্তে যাওয়ার পর বিজয় একাই ২৩৪টি আসনে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ নেন এবং সরাসরি ডিএমকে ও বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান।

 

চেন্নাইয়ের ডিএমকে সদর দপ্তরে আজ শোকের ছায়া। স্ট্যালিনের দলের কর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। অনেক জায়গায় দলীয় অফিসের বাইরে টাঙানো ব্যানার এবং শামিয়ানা খুলে ফেলতে দেখা গেছে সমর্থকদের। উল্টোদিকে, বিজয়ের বাড়ির বাইরে এবং টিভিকে-র প্রধান কার্যালয়ে অকাল দীপাবলি শুরু হয়েছে। ডিএমকে-র তৃতীয় স্থানে চলে যাওয়াটা তামিল রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।

 

যদি কোনো দল ১১৮টি আসনে পৌঁছাতে না পারে, তবে তামিলনাড়ু একটি 'ঝুলন্ত বিধানসভা' (Hung Parliament) পেতে চলেছে।

 

বিজয় বারবার বলেছেন তিনি জোটহীন রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু সরকার গড়তে হলে তাঁকে হয়তো কোনো দলের সমর্থন নিতে হবে। এআইএডিএমকে নেতা ই. পালানিস্বামী (EPS) এখনই জোট নিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না। তবে ক্ষমতার স্বার্থে বিজয়কে সমমর্যাদার নেতা' হিসেবে মেনে নেওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে। এআইএডিএমকে বর্তমানে বিজেপির এনডিএ (NDA) জোটের অংশ। বিজয় যদি এআইএডিএমকে-র সাথে হাত মেলান, তবে বিজেপির সঙ্গে তাঁর পরোক্ষ বোঝাপড়া হবে কিনা তা দেখার বিষয়।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয় আর শুধু 'কিংমেকার' নন, তিনি নিজেই এখন 'কিং' হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। এআইএডিএমকে নেতা সি. পুন্নাইয়ান এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "টিভিকে শহর এলাকায় ভালো ফল করেছে, কিন্তু গ্রামগঞ্জে আমরাই জিতব। তবে প্রবণতা বলছে, বিজয়ের আবেদন শহর ছাড়িয়ে গ্রামীণ তামিলনাড়ুত্ব ছড়িয়ে পড়েছে।

 

কোলাথুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন স্বয়ং বিজয়ের প্রার্থীর কাছে পিছিয়ে রয়েছেন। করুণানিধির পরিবারের 'চিপাক' কেন্দ্রটিও এখন ঝুঁকির মুখে। উদয়নিধি স্ট্যালিনকে কঠোর প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

 

২০২৬ সালের এই নির্বাচন তামিলনাড়ুর রাজনীতির 'প্যারাডাইম শিফট' বা আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমজিআর এবং জয়ললিতার পর বিজয় কি সেই তৃতীয় মহাতারকা হয়ে উঠবেন যিনি রূপোলি পর্দা থেকে সরাসরি মসনদে বসবেন? 

 

উত্তর পেতে আমাদের কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা মাত্র। তবে বিজয় ও এআইএডিএমকে-র সম্ভাব্য জোট নিয়ে যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তা তামিল রাজনীতির উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬