হোয়াইট হাউসে হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার’ এ শনিবার রাতে বন্দুকধারীর হামলার চেষ্টা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলের লবিতে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। ওই সময় নিচতলার বলরুমে বার্ষিক নৈশভোজ চলছিল। গুলির শব্দ পাওয়া মাত্রই সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও নিরাপত্তার জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, হামলাকারী নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছাকাছি গুলি চালায়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১), তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা। তার লিংকডইন তথ্য অনুযায়ী, তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং নিজেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, গেম ডেভেলপার ও শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার কাছে একটি ইশতেহার পাওয়া গেছে, যেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করার কথা উল্লেখ ছিল। এছাড়া তার সঙ্গে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একাধিক ছুরি ছিল। হামলার আগে তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে কিছু বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যদিও সেখানে নির্দিষ্টভাবে এই অনুষ্ঠানের কথা বলা ছিল না।
সোমবার তাকে ফেডারেল আদালতে তোলা হবে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হবে।
ঘটনার পর হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিক্রেট সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, হামলাকারীর মনে দীর্ঘদিনের ঘৃণা ছিল এবং তার পরিবারও তার মানসিক অবস্থার বিষয়ে অবগত ছিল।
একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে মতভেদ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, হোয়াইট হাউসে একটি নতুন উচ্চ-নিরাপত্তার ‘টপ সিক্রেট বলরুম’ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনরায় উল্লেখ করেন।
এই ঘটনায় একজন সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তা আহত হন। তবে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট থাকার কারণে তিনি গুরুতর আঘাত থেকে রক্ষা পান এবং পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ওয়েইজিয়া জিয়াং ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলাকে নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী যথাক্রমে মার্ক কার্নি ও অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ট্রাম্পসহ সবার নিরাপত্তায় স্বস্তি প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত দুই বছরে এটি ট্রাম্পের ওপর তৃতীয়বারের মতো হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ায় এক সমাবেশে তার কানে গুলি লাগে এবং সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডায় একটি গলফ ক্লাবে আরেকজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের জন্য সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬