|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৫৪ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

মুরাদনগরে দখলবন্দী খাল, পুনঃখননে কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত


মুরাদনগরে দখলবন্দী খাল, পুনঃখননে কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত


এন এ মুরাদ, মুরাদনগর, কুমিল্লা:


কুমিল্লার মুরাদনগরে অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে খাল-বিল ও নদী-নালার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। এর প্রভাবে কৃষি, পরিবেশ ও গ্রামীণ জীবনযাত্রায় দেখা দিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সংকট।

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগরে মোট কৃষিজমি ২৩ হাজার ৯১৫ হেক্টর। এর মধ্যে বোরো মৌসুমে প্রায় ৫ হাজার, আউশে ৭ হাজার এবং রোপা আমনে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি থেকে যাচ্ছে।

 

স্থানীয়রা জানান, একসময় এসব খাল ছিল নৌপথে পণ্য পরিবহনের সহজ মাধ্যম এবং দেশীয় মাছের প্রধান উৎস। কিন্তু প্রভাবশালীদের দখল ও অপরিকল্পিত ভরাটের কারণে এসব জলপথ এখন প্রায় বিলুপ্ত। ফলে কোথাও সেচের অভাবে, আবার কোথাও জলাবদ্ধতায় কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারছেন না।

 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জাহাপুর ইউনিয়নের বড়ইয়াকড়ি, রানিমুহুরী, বল্লভদীসহ আশপাশের গ্রামগুলো। সেখানে প্রায় ৬০০ কৃষকের ৩ হাজার বিঘা জমি তিন দশকের বেশি সময় ধরে জলাবদ্ধতায় পড়ে আছে। এছাড়া ছালিয়াকান্দি, দারোরা, ধামঘর, শ্রীকাইল, আন্দিকুট, বাঙ্গরা, যাত্রাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাল দখল ও ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা জলাবদ্ধতাকে আরও তীব্র করেছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

 

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড মুরাদনগরে নদী ও খাল পুনঃখননের একটি বৃহৎ উদ্যোগ নিয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে ১০০ কিলোমিটারের বেশি নদী ও খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বুড়ি নদীর ৩২ কিলোমিটার, আর্সি নদীর ৪০ কিলোমিটার এবং ২৪টি খাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি অদের খাল, নিমাইজুরী, হিঞ্জুরী, দৌলতপুর ও শৈলীখালী খালও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা কমে আসবে, সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে দেশীয় মাছের আবাসস্থল ফিরে আসায় জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার হবে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খাঁন পাপ্পু বলেন, “খালগুলো পুনঃখনন করা গেলে কৃষিতে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।”

 

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা রাশেদ শাহরিয়ার জানান, পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি ও পরিবেশ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যে কয়েকটি খাল পুনঃখননের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

 

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয়রা দ্রুত খাল দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬