|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১২ অপরাহ্ণ

বালাগঞ্জে ছিনতাই ও চাঁদাবাজ আতঙ্ক, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি


বালাগঞ্জে ছিনতাই ও চাঁদাবাজ আতঙ্ক, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি


সিলেট ব্যুরো:


সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনদুপুরে প্রকাশ্যে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, হামলা ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধ সংঘটিত হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্না ও মিজান নামের দুজনকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গড়ে উঠেছে, যারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি বালাগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান আহমদ রোমন অভিযোগ করেন, তার ট্রাকচালকের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালককে মারধর করা হয় এবং মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে, গত ১২ মার্চ সুহেল নামের এক যুবককে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চাঁদা দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ভুক্তভোগী ভয়ের কারণে মামলা করতে সাহস পাননি।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা দাবি, মারধর, দোকানে হামলা এবং সম্পদ ভাঙচুরের মতো একাধিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে একই চক্রের বিরুদ্ধে। এমনকি প্রকাশ্যে মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনায় থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ খুব একটা চোখে পড়ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক বলেন, “দল বা আমার নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে তার দায় আমরা নেব না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী বলেন, অভিযুক্ত মুন্না দলের কেউ নয়। কেউ দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া জানান, প্রাপ্ত অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সচেতন মহলের মতে, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬