অনলাইন ডেস্ক
বর্ষাকালে হঠাৎ বৃষ্টি ও তীব্র রোদের পালাবদলে শরীরে নানা ধরনের অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে অফিসে যাওয়া বা ফেরার পথে বৃষ্টিতে ভিজে গেলে সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। চিকিৎসকদের মতে, আকস্মিকভাবে শরীরের তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে এ সময় ভাইরাসজনিত সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এসব সমস্যা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
চিকিৎসকরা বলছেন, বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব ভেজা পোশাক বদলে শুকনো কাপড় পরা উচিত। ভেজা পোশাকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ বা সরাসরি ফ্যানের নিচে অবস্থান করলে ঠান্ডাজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। তাই বর্ষাকালে বাইরে বের হলে সঙ্গে অতিরিক্ত শুকনো পোশাক রাখা উপকারী হতে পারে।
বৃষ্টিতে ভেজার পর বাসায় ফিরে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে এবং ত্বকে লেগে থাকা জীবাণু দূর হয়। গোসলের পর মাথা ও চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়াও জরুরি। কারণ দীর্ঘ সময় মাথা ভেজা থাকলে মাথাব্যথা বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বর্ষার সময় রাস্তায় জমে থাকা পানি ও কাদার কারণে ত্বকের সংক্রমণ এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে পা ভালোভাবে পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন জুতো ব্যবহার এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত মোজা ও জুতো সঙ্গে রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৃষ্টিতে ভিজে আসার পর এক কাপ গরম ভেষজ চা, কফি বা হালকা গরম পানি শরীরকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদা, লবঙ্গ বা তুলসি পাতা দিয়ে তৈরি চা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকলে অনেক সংক্রমণ সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, যেমন—লেবু, আমলকি ও অন্যান্য ফল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায়ও ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।