স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩১ অপরাহ্ণ   |   ৪৩ বার পঠিত
স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান

ঢাকা প্রেস ডেস্ক:

 

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামোর উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।
 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্যবিষয়ক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
 

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাকে নীতিগত অগ্রাধিকারের শীর্ষে রেখেছে। সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
 

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।
 

স্বাস্থ্যকে নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে। দুই দেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
 

শিশুদের সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে টেকসই সামাজিক ব্যবস্থা, শক্তিশালী অর্থনীতি, মানসম্মত শিক্ষা এবং সহিংসতা, দারিদ্র্য ও অন্যান্য ঝুঁকি থেকে মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
 

বিশ্বব্যাপী পারস্পরিক যোগাযোগ ও নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য কূটনীতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
 

বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এবং জনকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশনগুলোর অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
 

চিকিৎসক হিসেবে বাংলাদেশে নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য গবেষণার অগ্রগতি এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
 

সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বাংলাদেশে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি উদীয়মান স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও বেশি সম্পদ, দক্ষতা ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য ফাউন্ডেশনটির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
 

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্যোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলোতে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত। সরকারের এ সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
 

সেমিনারে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়াসহ বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।