ঘাতক অন্তর মজুমদারের লাশ নিতে চায়নি স্বজনরা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৭ জুন ২০২৬ ০৩:৫৯ অপরাহ্ণ   |   ৪৫ বার পঠিত
ঘাতক অন্তর মজুমদারের লাশ নিতে চায়নি স্বজনরা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারের (২৮) মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার স্বজনরা। পরে বাধ্য হয়ে দূর সম্পর্কের এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব।

 

তিনি জানান, অন্তর মজুমদারের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানার চরভাটা এলাকার চরবজলুল করিম গ্রামে। তিনি কার্তিক মজুমদারের ছেলে। মরদেহ হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা মরদেহ গ্রহণে রাজি হননি।

 

পরে চরজব্বর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে অন্তরের দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই টিটু মজুমদারকে আনা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তার কাছেই মরদেহ হস্তান্তর করা হয় বলে জানান এসআই ইয়াকুব।

 

লক্ষ্মীপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বলেন, সুরতহাল সম্পন্ন হওয়ার পর অন্তর মজুমদারের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

এদিকে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, গণপিটুনিতে অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রায়পুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন।

 

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় এলাকায় আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায় অন্তর মজুমদার।

 

এ ঘটনায় শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফা (৯) নিহত হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অন্তরকে আটক করে মারধর করলে সেও মারা যায়।