আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণার তিন দিন পার হলেও তাকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি তার পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধের শুরুতেই তিনি আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।
ইরানের তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় যুদ্ধের প্রথম দিনেই ৫৬ বছর বয়সী এই নেতা আহত হন।
কর্মকর্তারা জানান, গত দুই দিনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন যে মোজতবার পায়ে আঘাত লেগেছে। তবে তিনি সচেতন অবস্থায় আছেন এবং সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে অত্যন্ত নিরাপদ একটি স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান টেলিগ্রামে এক বার্তায় বলেছেন—মোজতবা খামেনি আহত হলেও বর্তমানে নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। তিনি লেখেন, প্রথমে শোনা গিয়েছিল মোজতবা আহত হয়েছেন। পরে পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল।
অন্যদিকে ইসরায়েলের দুই সামরিক কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমস-কে জানিয়েছেন, তাদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মোজতবা খামেনি পায়ে আঘাত পান। তবে আঘাতের মাত্রা কতটা গুরুতর তা স্পষ্ট নয়। ওই দিন তেহরানের একটি ভবনে যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ও তার স্ত্রীসহ কয়েকজন নিহত হন।
মোজতবার শারীরিক অবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-র এক প্রতিবেদনে। সেখানে তাকে ‘যুদ্ধে আহত এক অভিজ্ঞ যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে প্রভাবশালী সরকারি দাতব্য সংস্থা কোমিতেহ এমদাদ এক বিবৃতিতে তাকে ‘জানবাজ জাং’ বলে উল্লেখ করেছে—যা ফারসি ভাষায় যুদ্ধে আহত অভিজ্ঞ যোদ্ধাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের কাছে নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি উত্তর দেননি। বরং তিনি বলেন, ‘যাদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর কথা, তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে গেছে।’
এর আগে সম্ভাব্য নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম সামনে আসার পর তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় ও বাসভবনের অবশিষ্ট অংশে নতুন করে হামলা চালায় ইসরায়েল। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ওই হামলায় ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, হামলার লক্ষ্য ছিলেন মোজতবা খামেনি, তবে হামলার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।
মোজতবার নাম ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট নন। যদিও তাকে হত্যার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সতর্ক করে বলেন, আলি খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হতে পারে।
এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে মোজতবা খামেনির ছবি সম্বলিত ব্যানার ও বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। একটি বড় বিলবোর্ডে দেখা গেছে, প্রয়াত আলি খামেনি মোজতবার হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা তুলে দিচ্ছেন এবং পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ইসলামি বিপ্লবের নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি।