১৪ দিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে তিন যুবক

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৮ জুন ২০২৬ ০৬:১৭ অপরাহ্ণ   |   ৪৯ বার পঠিত
১৪ দিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে তিন যুবক

মো. হারুন অর রশিদ, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:


কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইজলামারী ভন্দুরচর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের চেষ্টার শিকার তিন যুবক টানা ১৪ দিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিজিবি ও বিএসএফ উভয় পক্ষের নজরদারিতে থাকলেও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

 

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন যুবকের অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 

সরেজমিনে ইজলামারী সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, তিন যুবক পলিথিন বিছিয়ে শূন্যরেখার কাছেই অবস্থান করছেন। তীব্র রোদ থেকে বাঁচতে নিজেদের পোশাক টানিয়ে অস্থায়ী ছায়ার ব্যবস্থা করেছেন তারা।
 

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন জানান, ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঝুঁকির মধ্যেও তিন যুবক খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। ইজলামারী বিজিবি ক্যাম্প এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। তবে দুই সপ্তাহ পার হলেও তাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
 

এর আগে গত ১৪ জুন ভোরে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ছয়জন এবং ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কাঁটাতারের এপারে ঠেলে দিলেও বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধায় তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করাতে পারেনি বিএসএফ।
 

পরবর্তীতে মা ও শিশুদের দুর্দশা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ১৮ জুন ভোরে দুই শিশুসহ এক দম্পতিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ২৩ জুন একই সীমান্ত এলাকা থেকে আরও দুই যুবককে সরিয়ে নেওয়া হলেও ইজলামারী সীমান্তের ওই তিন যুবক এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
 

এ বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে বিএসএফ দাবি করছে, ওই তিন যুবক ভারতের নাগরিক নন। এ কারণে তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানে কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।