মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের টানে চীন থেকে নাটোরের বড়াইগ্রামে এসেছেন সুবেজ নামে এক চীনা নাগরিক। তিনি বর্তমানে বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের চর ভবানীপুর ভাটোপাড়া গ্রামে তার বন্ধু সাদিয়া খাতুনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
জানা গেছে, সাদিয়া খাতুন (১৭) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কৃষক সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাদিয়ার স্বজনরা সুবেজকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি জানাজানি হলে শুক্রবার সকাল থেকেই স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ তাকে একনজর দেখতে সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে ভিড় করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে একটি মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে সাদিয়ার সঙ্গে সুবেজের পরিচয় হয়। এরপর নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সুবেজ বাংলাদেশে এসে সাদিয়ার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর তিনি বাংলাদেশে আসেন।
সাদিয়া খাতুন বলেন, “আমাদের মধ্যে শুধুই বন্ধুত্বের সম্পর্ক। অন্য কোনো বিষয় নেই। সে নিজেই আমাদের বাড়িতে আসতে চেয়েছিল। ভিসা ও পাসপোর্টের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমি বাবা-মাকে জানাই। পরে তাদের সম্মতিতেই সে বাংলাদেশে এসেছে।”
চীনা নাগরিক সুবেজ বলেন, “আমি বন্ধুত্বের টানে বাংলাদেশে এসেছি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে।”
সাদিয়ার বাবা সাদ্দাম হোসেন বলেন, “মেয়ে বিষয়টি জানালে আমি তাকে আসতে বলি। সে আমার মেয়ের বন্ধু। একজন অতিথি হিসেবে আমাদের বাড়িতে এসেছে। কিছুদিন থাকবে, ঘুরে বেড়াবে, এরপর চলে যাবে। এর বাইরে অন্য কোনো বিষয় নেই।”
জোয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর চীনা নাগরিকের বড়াইগ্রামে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।