সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্র ও টাকা ঢুকলে সেই সরকারের দরকার নেই: শফিকুর রহমান

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৪২ অপরাহ্ণ   |   ৫৫ বার পঠিত
সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্র ও টাকা ঢুকলে সেই সরকারের দরকার নেই: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

সীমান্ত দিয়ে দেশে মাদক, অস্ত্র ও অবৈধ টাকা প্রবেশ করলে সেই সরকারের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মাদক নির্মূলে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব ব্যর্থতা স্বীকার করে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।
 

শনিবার সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে দায়িত্বশীল ও বিবেকবান বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে চায় জামায়াতে ইসলামী। সরকার ভালো কাজ করলে তাতে সমর্থন দেওয়া হবে, আর ভুল, অনিয়ম ও অপকর্ম হলে তার সমালোচনা করা হবে। সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে না। বিরোধী দলেরও ভুল হতে পারে, তবে নিজের দলের কেউ অন্যায় বা অপরাধ করলে তাঁকেও ছাড় দেওয়া হয় না।
 

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, আত্মীয়করণ, দলীয়করণ ও গোষ্ঠীকরণ ব্যাপকভাবে চলছে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রাজনৈতিক দলের জন্য ক্ষতিকর। দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজরা কোনো দলের সম্পদ নন; বরং তাঁরা দলকে ডুবিয়ে দেন। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে অনেক দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। মাদক ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
 

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কোনো বক্তব্য দিলে তার পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। তিনি কোথায় এবং কখন বৈঠক করেছেন, তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে। এ বিষয়ে তিনি প্রমাণ দেওয়ার চ্যালেঞ্জও জানান।
 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদের ভেতরেই সব সংকটের সমাধান করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সরকারি দল তাঁদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে। গণভোটের রায় মেনে নেওয়া হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 

জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া এবং সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিবর্তে সাময়িকভাবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া যেত। অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
 

নীতির প্রশ্নে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ ভুল করলে তাঁকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। নিজের দলের এক সংসদ সদস্যকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বাদ দিতে ২৪ ঘণ্টাও সময় নেওয়া হয়নি।
 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার ওপর। পরিস্থিতি বিবেচনা করে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তাঁরা জোটগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
 

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, দেশের কোথায় কী ঘটছে, তা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানা যায়। তবে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে সংবাদমাধ্যমেরও দায় থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 

সৌদি আরবের কারাগারে সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী তাঁদের বিচার হবে। তবে বন্দিদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা প্রয়োজন, যাতে তাঁরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না, তা জানা যায়।
 

দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাকে সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিদেশি হস্তক্ষেপ বা অনুপ্রবেশের মাধ্যমে নষ্ট করার চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।
 

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকেরা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও বৈদেশিক নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে ডা. শফিকুর রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির মো. ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, সেক্রেটারি ইয়ামীন আলী, হবিগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা মোখলেছুর রহমান, সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা সভায় অংশ নেন।
 

এর আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে ডা. শফিকুর রহমানকে পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সম্মেলন ও রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।