ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আরেক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান তথাকথিত ‘লন্ডন ষড়যন্ত্রের’ মূল হোতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ কাজের পুরস্কার হিসেবেই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ড. খলিলুর রহমানকে অপসারণের পাশাপাশি নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান তিনি।
‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ সঙ্গে জড়িতদের ‘মীরজাফর’ আখ্যা দিয়ে তাহের বলেন, এসব ব্যক্তি সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষাকে ভণ্ডুল করে দিয়েছে। পুরো সরকার নাকি সরকারের একটি অংশ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল— বিষয়টি জাতির সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কী ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, তা জাতির সামনে উন্মোচনের দাবিও জানান জামায়াতের এ নেতা।
দেশে এখনো শান্তি-শৃঙ্খলা পুরোপুরি ফিরে আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাহেরের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে এবং হামলার মাধ্যমে মানুষের জীবন নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠছে। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উগ্রবাদের প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতির যে অংশ নারীবাদ, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর সমান অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে— সেই শক্তিকে মূলধারায় আসতে না দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
যদিও তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করেননি। তবে তার বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।