আবদুল হাকিম রানা:
বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন লেখক ও সাংবাদিক আবদুল হাকিম রানা। তিনি বলেন, বাবা শুধু একটি শব্দ নয়, বরং সন্তানের জীবনে নির্ভরতা, নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল।
লেখকের ভাষায়, বাবা যেন এক বিশাল বটবৃক্ষ, যার ছায়ায় সন্তান খুঁজে পায় নিরাপত্তা ও স্বস্তি। নিজের মেধা, শ্রম, ঘাম ও ত্যাগের বিনিময়ে সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোই একজন বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। জীবনের প্রতিটি প্রতিকূলতা, ঝড়-ঝঞ্ঝা ও সংগ্রামের মুখোমুখি হয়ে তিনি পরিবারকে আগলে রাখেন এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে নিরলস পরিশ্রম করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাবারা নিজেদের অনেক স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করেন। একজন বাবা কখনোই সাধারণ মানুষ নন; তিনি সন্তানের জীবনের মহানায়ক, নীরব যোদ্ধা এবং অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর ত্যাগ, শ্রম ও সংগ্রাম সন্তানের ভবিষ্যতের ভিতকে শক্তিশালী করে।
লেখক আরও বলেন, পৃথিবীতে বাবার চেয়ে আপন ও নির্ভরযোগ্য মানুষ খুব কমই আছে। বাবার শাসনের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে গভীর ভালোবাসা। সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে গিয়ে তিনি কঠোর হন, কিন্তু অন্তরে বহন করেন অফুরন্ত মমতা। ছোটবেলার সেই শক্ত হাতই পরবর্তীতে জীবনের কঠিন সময়ে সাহস ও প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
নিজের বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবদুল হাকিম রানা জানান, তাঁর বাবা ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক। বাবার আদর্শ ও শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দীর্ঘ তিন দশক ধরে একজন কলমসৈনিক হিসেবে সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, তাঁর বাবা সবসময় শিক্ষা ও আদর্শকে সম্পদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। বাবার একটি উপদেশ আজও তাঁর জীবনের পথপ্রদর্শক—“সম্পদ একদিন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, কিন্তু জ্ঞান কখনো নষ্ট হয় না। তাই শিক্ষার আলোই মানুষের প্রকৃত সম্পদ।”
বিশ্ব বাবা দিবসে লেখক গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা কামনা করেন।
তিনি মনে করেন, বাবার ভালোবাসা, ত্যাগ ও আদর্শই একজন সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ এবং পথচলার অনুপ্রেরণা।