ধানের মাঠে এখন ক্যাপসিকাম

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১২ মার্চ ২০২৬ ০৩:০৮ অপরাহ্ণ   |   ৪৬ বার পঠিত
ধানের মাঠে এখন ক্যাপসিকাম

রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:


কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন যেন রঙের উৎসব। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লাল, হলুদ আর সবুজ রঙের ঝলমলে ক্যাপসিকাম। এক সময় বিলাসবহুল হোটেলের সালাদ কিংবা বিদেশি খাবারের অনুষঙ্গ হিসেবে পরিচিত এই সবজি এখন মুরাদনগরের উর্বর মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।

 

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে শুরু হওয়া ক্যাপসিকাম চাষ বদলে দিচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষির চিত্র এবং জাগিয়ে তুলছে কৃষকদের নতুন স্বপ্ন। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ‘কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় প্রথমবারের মতো মুরাদনগরে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে এই উচ্চমূল্যের সবজির আবাদ।

 

উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মুরাদনগর সদর, নবীপুর পশ্চিম, নবীপুর পূর্ব, বাঙ্গরা পূর্ব, ধামঘর, জাহাপুর, বাবুটিপাড়া ও আকুবপুর ইউনিয়নের মাঠগুলোতে এখন চোখে পড়ছে রঙিন ক্যাপসিকামের সমারোহ।

 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে পলি মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই চাষাবাদ করা হয়েছে। এ প্রযুক্তি জমির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, আগাছা কমায় এবং ফলনের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে কম খরচে বেশি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়।

 

অর্থনৈতিক দিক থেকেও ক্যাপসিকাম চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হয়ে উঠছে। কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এক বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষে খরচ হয় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তবে অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যা থাকলে সেই জমি থেকেই ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকার ফসল উৎপাদন সম্ভব।

 

ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন, প্রথমে ভয় ছিল এই বিদেশি সবজি আমাদের মাটিতে কেমন ফলন দেবে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার, কীটনাশক ও মালচিং পেপার পেয়ে সাহস পাই। এখন গাছে ভালো ফল এসেছে। বাজারে দাম ভালো পেলে লাভ হবে।

 

মুরাদনগর উপজেলা কৃষি অফিসার পাভেল খান পাপ্পু বলেন, ক্যাপসিকাম একটি উচ্চমূল্যের ফসল। বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা দিয়ে আমরা এই চাষে উৎসাহিত করছি। প্রথম বছরেই ফলন আশাব্যঞ্জক হওয়ায় আগামী মৌসুমে মুরাদনগরে ক্যাপসিকাম চাষের পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

 

স্থানীয়দের মতে, ক্যাপসিকামের মতো অর্থকরী ফসলের সম্প্রসারণ শুধু কৃষকের আয়ই বাড়াবে না, বরং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। মাঠজুড়ে দোল খাওয়া লাল-সবুজ ক্যাপসিকাম যেন সেই সম্ভাবনারই বার্তা দিচ্ছে।